কবিতা — আমি-র ঋণ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ রূপক কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা

আমি-র ঋণ
– অমরেন্দ্র সেন
বেদনায় ভরে ওঠে মন, আঁখি ভাসে জলে,
ক্লান্ত হৃদয় ডুবে যায় স্মৃতির অতলে।
আজন্ম চেনা এই দেহের আসন্ন বিরহে —
ম্লান হয়ে যায় জগতের সব কোলাহল।

ঈশ্বর যদি সত্যিই দয়াময় হন —
খুঁজি ব্যাকুল হয়ে, আছে সময় যতক্ষণ।
কৃপা করে যদি কোনো পথ করে দেন,
এই চেনা পৃথিবীর আলোয় —
আমার যদি আরও কিছুটা সময় হয় তখন!

আজন্ম খুঁজেছি অমৃত, অনন্তের আশ্বাসে,
নিজেরই প্রতিচ্ছবি দেখেছি ধরণীর পথে, ভোরের আকাশে।
যা কিছু সুন্দর, যা কিছু প্রিয়,
সবেতেই খুঁজেছি নিজেরে —
যেন আমারই ছায়া
বিশ্বময় এঁকেছে অবিনশ্বর মায়া।
তবু সেই জন্মের একান্ত প্রিয় আপন দেহটিকে
বিদায় দিয়ে যেতে হবে?

এত সুন্দর এই পৃথিবী —
এত ভালো লাগে, আলো, বাতাস, নদী, নীল আকাশে,
আনন্দের অবিরাম উৎসব, প্রিয়জনের পাশে!
সব ফেলে চলে যেতে হবে
অজানা অসীম আঁধারে?
যেখানে কেউ চেনে না মোরে, ডাকে না কেউ মোর নামে,
ফোটে না যেথা ফুল, সন্ধ্যায় জ্বলে না সেথা প্রদীপ ধামে।

যেখানে প্রেয়সী থাকে না বসে উদাস মনে,
প্রেমাস্পদের পথ চেয়ে চেয়ে;
হয় না হৃদয় উন্মন সুন্দর আঁখি দেখে,
ওঠে না হৃদয় আনন্দে গান গেয়ে।

এই সুন্দর ধরণী, সাগর নদী, অবারিত আকাশের হাতছানি —
সাজানো গৃহের কোণ, ছেড়ে যেতে হবে মোর প্রিয় মুখখানি?
আমার ‘আমি’ —
আমার আজন্মের প্রিয় এই দেহকে,
আঁচড়ের ব্যথা লাগে যারে —
রেখে দিয়ে যেতে হবে একা একা ফিরে?

যদি সবই পড়ে থাকে এই ভবে ,
তবে আমার সাথে কী-ই বা রবে?
এই পৃথিবী,
এই শরীর,
এই চেনা পরিচয় —
সবই কি তবে ক্ষণিকের ঋণ হয়ে কাছে রয়?
তবে কে সে,
যারে বলি — “আমার আমি”?

৩ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা