কবিতা — জীবন এক যাত্রা অনন্তের পথে

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ রূপক কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা

জীবন এক অনন্ত যাত্রা —
স্বল্প বা দীর্ঘ পথের মাত্রা,
ইচ্ছা শক্তি জন্মক্ষণে মেপে দেয়;
যেমন মহাকর্ষের নীরব আহ্বানে
গ্রহ খুঁজে নেয় আপন কক্ষপথ —
তেমনি প্রথম স্পন্দন বেঁধে দেয়
জীবনের সম্ভাব্য গতিপথ।

অন্তরে জ্বলে যেই বহ্নিশিখা,
সে আলোয় যতটুকু চলা যায় পথ;
তারপর সে যাত্রার অন্তিম প্রহরে
চেতনা ফিরে যায় অসীম সাগরে —
যেথা সৃষ্টির আদিবিন্দু হতে
তুলেছিল ইচ্ছা জীবনের ঢেউ;
সময় যখন ছিল নিস্তব্ধ,
সম্ভাবনার গর্ভ ছিল শূন্যতা।

জীব আর জড় —
ভেদ কোথায় যদি দেখি অন্তর?
জন্ম ও মৃত্যুর আবর্তে
সৃষ্টির ভিন্ন অবস্থা মাত্র তাতে।
মন, বুদ্ধি, চেতনা, অহং —
ভাবনার অসীম পারাবার;
বস্তুর অণু-পরমাণুও নৃত্য করে
অদৃশ্য চিরন্তন নিয়মের ভরে।

যদি শক্তির ঘনীভূত রূপই বস্তু,
তবে মন কি শক্তিরই সূক্ষ্ম প্রকাশ?
দেহের অবসানে যদি চেতনা থাকে,
তবে কি বস্তুও বদলায় শুধু পরিচয়?

নাকি শক্তিই সকলের আদি —
মন, বস্তু, জীবন ও প্রাণ?
নাকি চৈতন্যই মহাশক্তি,
স্পর্শে যার বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চলমান?

প্রশ্নেরা জেগে থাকে নীরব অন্তরে,
উত্তর মেলে না ভাষায় প্রকারে;
তবু অনুসন্ধান মানুষের ধর্ম —
সেই পথেই অনন্তের পথিক মনুষত্বের কর্ম।

হয়তো একদিন ফিরে যাব সবাই
সেই অনাদি উৎসের পারে —
যেথা হতে এসেছি সৃষ্টির অনন্ত স্রোতে,
ক্ষণিক এক তরঙ্গ হয়ে
লীন হব অসীম সাগরে।

২ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা