ডুমুরের ডালে শালিখের বাসা,
কামিনীর ঘন পাতার আড়ালে—
ছোট্ট বুলবুলির লুকানো আশা,
কখন বুঝি চিল নিয়ে যায় চলে।
জল ভেজা মাটির নরম পিঠে
আমরুলের খুদে গোল পাতা,
ছোট পোকার মাথা গোঁজার
মেলানো সবুজ প্রকৃতির ছাতা।
থমকে বাতাস হিজলের বনে যেতে,
ঢেউ ছড়াতো রোদ ধানের খেতে;
নদীর চেনা বাঁক, সোনালী আঁশ,
ঘাসের শিশিরে ভোরের প্রবাস।
ঘরের পেছনে পুকুর ভরা—
শাপলা ফুলের কুসুম হাসি,
ঝরে পরা বকুলের কুঞ্জ পথে
মোদিত বাতাস দাঁড়াতো আসি।
ঘাসে ভরা মাঠে দুলফীর ফুল,
সবুজের মাঝে সাদা সাদা দুল;
তারার পাশে সন্ধ্যার আকাশে
মিঠে জ্যোৎস্না উঠোনে হাসে।
খুঁজতে গিয়েছি শরতের বিকেলে,
সব হারিয়ে কোথায় মিশে গেছে!
গ্রামের ধুলো আজ নিলামে আছে,
বিক্রি হয়েছে যে মহাজনের কাছে।
সবুজ উপড়ে দাঁড়িয়ে ইট আর পাথর,
পাখিরা প্রবাসে গিয়ে গুনছে প্রহর;
ধোঁয়া আর ধুলোর ধূসর আঁধারে
শৈশব স্মৃতি কাঁদে হৃদয়ের দ্বারে।
সবুজ ঢেকেছে সব অট্টালিকা,
আকাশে ঢেকেছে ধূসর ছাদ;
রবির কিরণে আগুনের শিখা ,
আকালের বাদলে হারিয়েছে চাঁদ।
শান্ত সৌম সরল প্রকৃতির হিয়া,
বসে ছিলো যেথা আঁচল বিছাইয়া ;
সময়ের চিল চুরি করে নিয়ে গেছে—
হৃদয় হেরেছে যবে চাহিদার কাছে!
অজান্তেই মানুষ হেরে যায়,
বিবর্তন কেড়ে নেয় আবেগ;
হৃদয় ভুলে যায় ভালো আর মন্দ—
চোখের জলের থেমে যায় বেগ।
অনুসন্ধান করুন
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক । ভালো থাকবেন নিরন্তর ।
আরো দেখুন
অমরেন্দ্র সেন
লেখক:
অমরেন্দ্র সেন