আজ মৈখানার জানালায় সাঁঝ নেমেছে ধূপের মতো,
আর আমি আমার নাম খুলে রেখে এসেছি দরবেশের ছেঁড়া জুব্বার পাশে।

সাকি, আর এক পেয়ালা ঢালো।
এই হৃদয় এখনও নিজের অস্তিত্বে আক্রান্ত।
যতবার প্রেমকে খুঁজতে গিয়েছি, ততবার দেখেছি,
প্রেম কোনো মুখ নয়,
প্রেম সেই আয়না যেখানে তাকালে নিজেকেই আর দেখা যায় না।

বিদ্রোহের কথা বলছ?
বিদ্রোহ হলো সেই বুলবুল,
যে গোলাপের কাঁটার বিরুদ্ধে নয়,
বরং নিজের রক্তের বিরুদ্ধে গান গায়।
কারণ সে জানে, ফুলের কাছে পৌঁছাতে গেলে আঘাতই একমাত্র দরজা।

আমি একদিন মসজিদে গিয়েছিলাম, খোদাকে খুঁজতে। তিনি সেখানে ছিলেন না।

তারপর এক মাতালের ভাঙা হাসিতে,
এক ভবঘুরের ধূলিমাখা চাদরে, এক পরিত্যক্ত প্রেমিকার চোখের জলে তাঁর পদচিহ্ন দেখতে পেলাম।

তখন বুঝলাম, স্বর্গ কোনো স্থান নয়,
স্বর্গ হলো হৃদয়ের সেই ক্ষত যেখানে প্রেম এসে আলো হয়ে বসে।

সাঁঝবাতির তারারা ডুবে মরে কেন?
কারণ আলোও একদিন আলোর উৎসের কাছে ফিরে যায়।
যেমন নদী সাগরে,
যেমন নিশ্বাস নীরবতায়,
যেমন প্রেমিক প্রেমের লাশ হয়ে প্রেমাস্পদের বুকে আশ্রয় নেয়।

হাফিজের পুরনো মদের গন্ধ ভেসে আসে:
"যতক্ষণ তুমি আছ,
ততক্ষণ পথ আছে।
যেদিন তুমি নেই,
সেদিন শুধু তিনি আছেন।"

তখন বিদ্রোহ থেমে যায় না, বরং সিজদায় রূপ নেয়;
আর ভালোবাসার লাশ কবর থেকে উঠে অনন্তের দিকে হেঁটে যায়,
মাথায় নক্ষত্রের কাফন পরে।
......... ........