সাঝবেলাকার বিঢ়ান মাঠে একা শিয়াল দূরে ঐ
তখন সাঁঝের পাখি শালিক শ্যামা চড়ুই
ডরে ডরে সব পাখিদের সঙ্গে করে
সারি সারি ঘরে ফিরার হিরিম পরে
ওরা মন বুলানো হাজার পাখি
গানে গানে মধুর সুরে ডাকি ডাকি
একে একে ফিরে আপন নীড়ে
পাখিরা সাঝঁকে রাখে ঘীরে
তখন সাঁঝের রবি আকাশ ছুঁয়ে অস্তাচলে যায় যায়
পাহাড় নদী হিঙুর বনে ঝিঁ ঝিঁ ডাকে সায়
আগুনমুখো মুখটি সাঁঝের চতুর্দিকে লাজ
ঘোমটা পড়া বউ সাজে নিত্যদিনের সাজ
বিচ্ছেদের বিরহ বিধে এমন রুধিরে রঙে রাঙা
চুপটি করে বউঠানে যেয়ে ডিঙিয়ে উঠায় ডাঙা
মেঘের উপর সাঁঝের আলো লাল নীল কালো
রূপটি যেন তার মায়ের পাতা আঁচল আলো
সিঁদুর পড়া বউটি তখন তুলসী তলে প্রদীপ জ্বালে
আলপনা করা উঠোনে হাটে আলপনার তালে তালে
জোনাকিরা আলোয় আলোয় বউকে ধরে ঘীরে
তার মনেও রং লাগে সন্ধ্যা নামে ধীরে
প্রকৃতির লেনদেন একদিন এমনি করে হয় শেষ
তীরে তীরে নিশাচরে রূপ রস খুঁজে অশেষ
ধরনীর সুন্দরতর রূপটি ফুটিয়েছে সাঁঝ
সাঁঝের মাথায় যেন বিশ্ব মায়াবিনীর তাজ
ঢেউয়ের হিন্দোলে গেঁথে গেঁথে যায় মায়া
নদীর জলছাপে ভেসে উঠে সাঁঝের কায়া
গভীর কাজলে তার আগুন চোখ আঁকা
যেন সন্ধ্যা নয় বিকেলই সে ঢাকা
সাঝ তবু সন্ধ্যার সকল আরতি
বিকেলের তরে হয়ত প্রেমের মুরতি