আমি এক অভিযাত্রী অন্ধকার নক্ষত্রের নিচে একা-
শুধু এ অন্ধকারই যেন পড়েছে চোখে প্রেমের মায়া কাজল রেখা
চারদিকে তখন অগাধ নিঃসঙ্গতা
আনোখা কন্ঠে বা মেঘের আড়াল থেকে
চোখ তুলে কেউ বললো না সে কথা -আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে ভালোবেসি।
আমি কতটা পথ পাড়ি দিয়েছি
আমি ঘুরেছি স্মৃতির চরে
আদিম অন্ধকারে ধীরে ধীরে
ছূয়েছি ক্লান্তির দীর্ঘ ইতিহাস
খুঁজেছি তাকে দীর্ঘ দিবস রাত
আমি এক মুসাফির
চারিধারে এত এত লোকের ভীড়
তবুও সে প্রেম দিল না দেখা-
উত্তাল প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শীতল হিমালয়ের চূড়া পর্যন্ত তখন
একরোখা কাজল কালো অন্ধকার
আমি এক অন্ধ নায়ের মাঝি
চিরসবুজ প্রেমের সন্ধানে
হন্যে হয়ে তাকে খুঁজি, বারবার
শত জনমের ক্লান্তি নিয়ে
আমি পথ চলেছি একা ধূলির পরে
তবু সে প্রেম দিল না দেখা-
সূর্যের মত তখন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি
দূর থেকে দূর সুমুদ্রের তরে
দুই যুগ কেটে গেছে অন্ধকারে
একা হেঁটেছি পথ ভুলে
আমি এক পথহারা পথিক
খুঁজেছি তাকে দিক বিদিক
তবুও সে প্রেম দিল না দেখা-
কত তীর ছেড়েছি পেছনে,
কত নগর হয়েছে ধূলিসাৎ
মহাচীনের প্রাচীর পেরিয়ে পৌছেছি
যেখানে রোমের রক্তিম প্রভাত
তবুও সে প্রেম দিল না দেখা-
আমার বুকে জলোচ্ছ্বাসের উথলে পড়া ঢেউ
পেলো না খুঁজে আপন উপকূল
যুগ যুগ ধরে আমি ভেসেছি আঁধারে
শত জনমের ক্লান্তি নিয়ে আমি
হেঁটেছি অতলের পথ
আমার বুকে আঘাতের চিহ্ন দীর্ঘ ক্ষত
নদীর ভাঙা তীরের মত যার তট
এত মানুষের ভীড়েও আজ আমি
বড় নিঃস্ব বড় একা
তবু সে প্রেম দিল না দেখা-
সন্ধ্যার অন্ধকারে তখন শুধু শিউলির ঘ্রাণ
ক্লান্ত পাখির ডানার মত এ জীবনের অবসান
তবুও সে এসে দিলে না দেখা-
আমি যেন বড় অচেনা
পাগলের মত উশখুশে যার চূল তসবি গলায়
আমার জনম যেন অগাধ কোন এক ভুল
এ মৃত সাগরের বুকে কেউ ফুটায়নি
একটিও প্রেমের ফুল
এঁকে এঁকে সবাই করেছে ছল
তপ্ত এ মরু বুকে কেউ দেয়নি
এক ফোঁটাও শীতল প্রেমের জল
মহাকালের ধূলি মেখে মেখে এখন
আমি এক সন্ন্যাসী কবি
আমার চোখে ফুটে ওঠে
কতগুলো মায়াবীনি ছবি
মায়াবী সে মানুষ শুধু নিষ্ঠুর নয় নিষ্ঠুরতর হায়
আচমকা এক ধূলিঝড় এসে
আমার চোখ মুখ করে দিল অন্ধ
আমার অন্তহীন প্রেমের ক্ষুধা
দরজা করেছে চিরতরে বন্ধ
পুড়েছে হৃদয় পেলাম না সবুজ শস্যের ঘ্রাণ
প্রেমের তরে নিভৃত পথিক প্রেম ছিল যার প্রান
মনে হয় সে প্রেম মেঘের অতল অন্ধকারে ঝিলমিল করছে
বজ্র মুঠিতে বৃষ্টিধারার মত অবিরাম ঝরছে
নদীর সাগরের মোহনায় মিশলেও
মানুষের প্রেম কখনো সাগরের বুকে মিশে না
মানুষ নিষ্ঠুরতর হে নিষ্ঠুর যার সারাংশ
শোন প্রেম ও পাড়ার দস্যি মেয়ে
তোর উদাস চোখে চেয়ে চেয়ে
আমি পাড়ি দিলাম সাগর পাহাড়
আমি এমন পাগল প্রেমের নেয়ে
তুই তাকিয়ে থাকিস যেন কেমন কেমন করে
ডুবে মরি তোর চোখের গভীরে
এমন যাদু তোর চোখের পাতায়
মন হারায় এক পলকে আলতো ইশারায়
প্রেম তুই এক মায়াবী চোখের মেয়ে
আমি আনমনা হই তোর পানে চেয়ে চেয়ে
কেন মেঘ জমাছ ঐ দুই নয়নে
আর ব্যাথা দিস এ অবুঝ মনে
তুর চোখের ঐ কাজল রেখার টান
যেন হাজার যুগের প্রেমের গান
এমন গভীর চাহনি যেন বিষাদ কোন মায়া
তোর চোখের কোটরে দেখি সে অন্ধকারের ছায়া
সবুজ পাতার ডগায় যেমন শিশির থাকে লুকিয়ে
তেমনি আমি তাকিয়ে থাকি তোর পানে তাকিয়ে
তুই তাকালে থমকে দাঁড়ায় বিশ্ব চরাচর
তুর চোখের কাজল জানে এ হৃদয়ের খবর
ঐ চোখ যেন চাদের আলোর দ্যুতি
আর ভালোবাসার নিরব প্রতিশ্রুতি
ঐ মায়াবী চোখে আঁকা বিষাদ গাঁথা
আর আমার কবিতার খাতা
তবু কোন হরিনীর চোখ আমার চোখে পড়ল না
কারো কাজল চোখের সাথে আমার দেখা হলো না
শুধু এ সন্ধ্যার অন্ধকার কাজল রেখা ছাড়া