আবছা অন্ধকার আমার পাসপোর্টের রঙগুলো সব শুষে নেয়
আর যেন বেড়াতে আসা এক পর্যটকের খেয়ালি শখে সংগ্রহে রাখা ফটোগ্রাফের মতো
আমার ক্ষতগুলোকে বাজারে বিকানো পণ্য বানাই।
ওরা আমাকে পরিচয়হীন ভাবে
দ্যাখো... এখনই চলে যেও না
আমার হাতের ওপর কড়া রোদ নেই এখন
কারণ আমি বৃক্ষের তলায় দাঁড়িয়েছি
জ্যোৎস্নাহীন চাঁদের মতো বিবর্ণ আমাকে রেখে, চলে যেও না!
...
যেসব পাখির দল জেনেছিল আমার হাতের তালু
অদূরবর্তী বিমানবন্দরের ফটক
যত শষ্যের মাঠ
বন্দিশালা
সফেদ সমাধির পাথরগুলো
কাঁটাতার ঘেরা সীমান্ত
বাতাসে দুলতে থাকা কারুকাজগুলো
সকল দৃষ্টি
ছিল আমার নিজের,
অথচ আমার পাসপোর্ট থেকে সকল কিছু কারা যেন উধাও করে দিয়েছিল
...
আমার নাম-পরিচয় মুছে দিতে চাও?
যে মাটিতে বেড়ে উঠেছি আশৈশব সেই মাটিতে?
আজ আর্তনাদে
আকাশ কেঁপে ওঠে
আমাকে আরেকবার জাগিও না!
ওহে ভদ্রমহোদয়, ওহে অবতারগণ,
বৃক্ষদের কাছে তাদের নাম জানতে চেয়ো না
জানতে চেয়ো না উপত্যকাদের কাছে তাদের আদি পরিচয়
আমার কপাল থেকে বিচ্ছুরিত হয় আলো, তৈরি হয় তরবারির দীপ্তি
আর আমার হাতের নিচ থেকে প্রবাহিত ঝর্ণার পানি মেশে ওই নদীতে
সকল আত্মায় মিশে আছে আমার পরিচয়
বরঞ্চ তুমি আমার পাসপোর্ট নিয়ে যাও!
কবিতা — ওরা আমাকে পরিচয়হীন মনে করে
শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
সাম্য-জীবনমুখী কবিতা
,
বিদ্রোহী-দ্রোহের কবিতা
৯১৯
মন্তব্যসমূহ
অনুসন্ধান করুন
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক । ভালো থাকবেন নিরন্তর ।
আরো দেখুন
অমরেন্দ্র সেন
লেখক:
অমরেন্দ্র সেন
অনবদ্য।