আমায় ভুলতে পারবে না তুমি—
এই নীরব বিশ্বাসেই দাঁড়িয়ে আছে আমার ক্ষতবিক্ষত দিনগুলি।
আমি শুধু তাই করেছি,
যা মানুষের ভেতরের মানুষ হতে চায়—
তবু হয়তো কোথাও
একটু দ্বিধার ছায়া পড়ে গেছে সিদ্ধান্তে।
সত্য যদি একদিন জানতে পারো,
তুমি নিজেকেই ভুল বুঝবে—
কিন্তু সেই স্বীকারোক্তির সাহস
তোমার অসীম অহংকারে হয়তো ধরা দেবে না।
আমাকে ঘৃণা করেছ তুমি বহুবার,
কারণ মনের মতো না হলে
মানুষ তার প্রিয় মানুষকেই
সবচেয়ে বেশি ঘৃণায় ভরিয়ে তোলে—
ভালোবাসার মুখেই তখন
जन्म নেয় অজস্র অগ্নিমুখ,ভুলের ধোঁয়ার অন্ধতা।
যাকে তুমি একদিন বলেছিলে—
“প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি,”
তাকেই আবার
ঘৃণার আগুনে জ্বালিয়ে দিতে
একটু ও দেরি কর নাই।
তবু আমি জানি,
তুমি নিজেকেই কোনোদিন বোঝার চেষ্টা কর নাই—
কী পেতে চেয়েছিলে ভালোবাসার বিনিময়ে?
এই না-জানার চেষ্টা কর নাই,
অহংকারের অন্ধ আলো,
যা ভালোবাসার ওপর ছায়া ফেলে পুড়িয়ে দেয় সব কোমলতা।
ভালোবাসা সহজ নয়,
সে এক নীরব সাধনা—
যেখানে মানুষ শেখে নিজেকে হারিয়ে
অন্যের সুখে নিজের আনন্দ খুঁজে নিতে।
এই সাধনাই মানুষকে
ধীরে ধীরে মানুষ করে তোলে।
যদি তা বুঝতে পারতে,
তবে দেখতে—
তোমার চারপাশেই দাঁড়িয়ে আছে
তোমারই সুখের প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু তুমি দেখেছিলে
একটি সংকীর্ণ বাতায়ন দিয়ে আমায়—
তার বাইরে যে বিশালতা ছিল,
তা তোমার দৃষ্টির গণ্ডিতে ধরা পড়েনি।
সময় কারও জন্য থেমে থাকে না—
যখন বুঝবে,
তখন হয়তো দুঃখই হবে তোমার একমাত্র সঙ্গী।
ভুলের হিসেব বড় নির্মম হয়—
নিঃসঙ্গতার প্রতিটি প্রহরে
তা ধীরে ধীরে শব্দ হয়ে বাজে বুকে।
আমি তোমারই ছিলাম—
দেহে, মনে ও অস্তিত্বে।
তবু শেষ অবধি,
তুমিই বন্ধ করেছ দরজা—
রুদ্ধ দ্বার জীবনে।