ভাঙল যখন সাধের ভিটা, বসে রইলাম দ্বারে,
সাঁঝের তারা উঠল দেখি পশ্চিম-আকাশপারে।
দীপ জ্বালাবার মানুষ ছিল, দীপটি শুধু রইল,
বাতাস এসে শিখার সাথে কত কথা যে বলল।

ভোরে দেখি, শিশিরগুলো ঘাসের ’পরে আছে,
রাতের যত কান্না ছিল, কেউ কি তা আর যাচে?
বকুলতলায় ঝরে-পড়া ফুলগুলো সব শুকায়,
তবুও গাছে নূতন কুঁড়ি নীরব হাসি ফুটায়।

পথের ধারে পুরাতন সেই বটটি যেমন আছে,
কত পথিক এল গেল, দাঁড়ায়নি তার কাছে।
তবুও তো সে ছায়া দেয় অপরিচিত জনে,
আপন দুঃখ রাখে লুকায় পাতারই কম্পনে।

আমারও যে ছিল কিছু, আজও তা রয়—
ভাঙা ঘরের ধূলোর মাঝে হারায়নি পরিচয়।
যা গেছে, তা গিয়েছে—ডাকি না আর ফিরে;
স্মৃতি শুধু সন্ধ্যাবাতির মতো জ্বলে ধীরে।