বিকেলের আলো যখন ধানের শীষে নেমে আসে,
মনে হয় পৃথিবী বুঝি তার সমস্ত ক্লান্তি খুলে রেখে একটু বসেছে।
সেই আলোর ভেতরেই কোথাও অয়ন্তিক হেঁটে যায়
শিশিরে ভেজা ঘাসের উপর,
নাম না-জানা পাখির ডানার পাশে,
কাশফুলের নীরব সাদা দোলায়।
বাবা-মা তাকে আর দেখতে পান না;
তবু ঘরের প্রতিটি জিনিস যেন
তার ছোট্ট আঙুলের ছাপ বয়ে বেড়ায়।
রঙতুলি শুকিয়ে গেছে, খাতার ভাঁজে ঘুমিয়ে আছে
অর্ধেক লেখা একটি সকাল;
জানালার ধারে রাখা ছোট্ট জুতোগুলো
এখনও দরজার শব্দ শুনলেই চমকে ওঠে।
কিন্তু সময়েরও কখনও কখনও ভুল হয়।
সে একটি নামকে ঋতুর আগেই ঝরিয়ে দেয়।
তারপর থেকে সন্ধ্যা হলেই আকাশে একটি অদৃশ্য তারা একটু বেশি জ্বলে।
কেউ তাকে তারা বলে,
কেউ স্মৃতি;
আর দুজন মানুষ নীরবে তাকে ডাকেন—অয়ন্তিক।
প্রেমেরও অদ্ভুত নিয়তি আছে।
কিছু প্রেম হাত ধরে পথ হাঁটে, কিছু প্রেম সংসার গড়ে;
আর কিছু প্রেম কোনো ছোট্ট শিশুর নাম হয়ে পৃথিবীতে আসে,
তারপর একদিন বাতাস হয়ে যায়।
তাকে আর ছোঁয়া যায় না,
শুধু শোনা যায়,
দূরের বাঁশবনে বাতাস উঠলে,
অথবা গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে,
মনে হয় কেউ খুব আস্তে বলে উঠল,
“আমি তো আছি!
শুধু তোমাদের চোখের আড়ালে।”
তারপর ভোর হয়।
ধানক্ষেতে আলো নামে।
পাখিরা উড়ে যায়।
আর বাবা-মায়ের বুকের ভেতর,
অয়ন্তিক নামের সেই ছোট্ট পৃথিবীটি,
প্রতিদিন নতুন করে জন্মায়
প্রতিদিন নতুন করে হারিয়ে যায়।
……….. ………