কবিতা — দিনান্তের মহাকাব্য

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ বিদ্রোহী-দ্রোহের কবিতা, রূপক কবিতা

কিছু মানুষকে ক্ষমা কোরো না,
অন্তত এখনও নয়।
যে নদী সাগরে পৌঁছায়,
সে-ও তো পথে পথে অগণিত পাথরের অপমান বহন করে; তবু পাথরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা লেখে না।

আমি বলি, তোমার ক্রোধকে রাত্রির গভীরতম নক্ষত্র করে রাখো,
যেন সে জ্বলে, কিন্তু পৃথিবী দগ্ধ না হয়।

কারণ, প্রত্যেক অন্যায় নিজের বুকেই বহন করে একটি অদৃশ্য কবরফলক;
প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকতা নিজের রক্তেই ধীরে ধীরে লিখে রাখে নিজের শেষ পরিচয়।

তুমি শুধু সময়ের পাশে বসে থাকো।
দেখবে,
যে মানুষটি অন্যের সূর্য নিভিয়ে নিজের প্রভাত বানিয়েছিল, একদিন তারই জানালায় অন্ধকার এসে নিজের নাম লিখে যাবে।

সময় কোনো সম্রাট নয়, সে কোনো জল্লাদও নয়।
সে এক প্রাচীন বৃক্ষ!
তার শিকড় মানুষের কর্মে,
তার ফল মানুষেরই নিয়তিতে।

যে বিষ বুনেছে,
সে ফলের মিষ্টতা পাবে না;
যে আগুন বুনেছে,
তার শীতও ছাইয়ের গন্ধে ভরে উঠবে।
তাই বলি, ক্ষমা কোরো না,
ঘৃণার জন্য নয়, বিচারের জন্যও নয়।
অপেক্ষা করো।

কারণ, কখনও কখনও ঈশ্বরও
বজ্রপাতের আগে দীর্ঘক্ষণ মেঘ জমতে দেন।
আর যখন সেই মেঘ ভেঙে পড়ে,
কোনো শব্দই তার চেয়ে বড় হয় না।

তখন তোমার নীরবতাই হবে সবচেয়ে উজ্জ্বল উচ্চারণ,
তুমি কিছুই বলবে না।
শুধু দেখবে,মানুষের সমস্ত পলায়ন শেষে,
শেষ পর্যন্ত সে ফিরে আসে নিজেরই কর্মের দরজায়।

“শেষ পর্যন্ত
মানুষ তার পাপ থেকে নয়,
নিজের প্রতিধ্বনি থেকেই
পরাজিত হয়।”
…………… ……… …

২ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা