একজন মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছিলেন। তিনি প্রতিদিনের মতো আজও রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাচ্ছেন। তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেই গ্রামের এক পাঁজি ছেলে অটোরিকশা দিয়ে যাচ্ছে। সে ঐ ইমামকে দেখে হাসিঠাট্টা করে বলে—
“মোল্লা হুজুর চড়েন রিকশায় আর কত হেঁটে হেঁটে যাবেন। যেতে আসতে ২০ টাকা ভাড়া। তেমন কিছুই হবে না। খান তো মানুষের বাড়িতে। আবার মসজিদ থেকে ৩ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে পান। এই দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে গিয়ে তো আজানের সময় পাবেন না। তাই চলেন।” (সামান্য হাসিমুখে তিরষ্কারের স্বরে)
তা শুনে হুজুর বলেন—
“ভাই আপনি যান। আমি যামু না। এখনো অনেক সময় আছে আজানের। আমি ঠিকমতো মসজিদে পৌঁছে যাবো।” (স্বাভাবিক মুখে)
পাঁজি ছেলেঃ
“বুঝেছি হুজুর এত কথা কেন বলছেন। এখন যদি রিকশা যান, তাহলে আপনার ২০ টাকা খরচ হবে, তাই যাচ্ছেন না। আপনি রিকশায় উঠেন, আমি ভাড়া দিয়ে দিবো।” (সামান্য হাসিমুখে)
হুজুরঃ
“না ভাই, আপনি যান। আমি রিকশায় চড়ে যাবো না। এই রিকশাওয়ালা ভাই রিকশা টান দেন তো।” (কিঞ্চিত হাসিমুখে ও কিঞ্চিত রাগান্বিত হয়ে)
পাঁজি ছেলেঃ
“২০ টাকা ফকিরকে দিলেও দিতাম। এখন না হয় আপনি যাবেন সেজন্য দেয়।” (হাসিমুখে)
হুজুর অন্য দিকে তাকিয়ে আছেন। তখন পাঁজি ছেলে হুজুরের টুপি মাথা থেকে নিয়ে রিকশাওয়ালাকে বলে—
“রিকশা চালান।”
এরপর হুজুর দৌড়ে বলেন—
“এই ভাই আমার টুপি টা দিয়ে যান।” (রাগান্বিত হয়ে)
কিন্তু তারা শুনে না। রিকশাওয়ালা বলে—
“ভাই কাজটা ঠিক হচ্ছে না। উনি একজন ভালো হুজুর। উনি বদ দোয়া দিলে আপনার ক্ষতি হতে পারে।”
পাঁজি ছেলেঃ
“দুর শকুনের দোয়ায় কি গরু মরে?”
রিকশাওয়ালাঃ
“হয়তো মরে, আবার নাও পারে। কিন্তু আপনি আল্লাহর একজন বান্দাকে অপমান করছেন—এটা ঠিক না।”
পাঁজি ছেলেঃ
“আমি টুপি দিয়ে দিচ্ছি।”
সে টুপি ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
হুজুর টুপি তুলে মাথায় পরে বলেন—
“আপনি আমাকে নয়, নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহকে অপমান করেছেন।”
পাঁজি ছেলেঃ
“আমি আপনাকে অপমান করেছি।”
হুজুরঃ
“না, আপনি সুন্নাহকে অপমান করেছেন।”
এরপর ছেলেটি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
—
কিছুদিন পর হুজুর রাস্তার পাশে অসহায় শিশুদের খাবার দেন। একজন সাংবাদিক এসে জিজ্ঞেস করে—
“হুজুর, আপনি কী করছেন?”
হুজুর বলেন তিনি নিজের বেতন ও ভাড়া বাঁচিয়ে শিশুদের খাবার দেন।
এ সময় পাঁজি ছেলে এসে আবার তাকে ধাক্কা দেয় এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলে।
—
কিছুদিন পর সেই ঘটনা ভিডিও আকারে ভাইরাল হয়ে যায়। ছেলেটি রেগে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়, কিন্তু রাস্তায় দুর্ঘটনায় পড়ে।
হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। ডাক্তার বলেন রক্ত দরকার, এ পজিটিভ।
তার বাবা ও বন্ধুরা দিতে পারে না। তখন হুজুর এসে বলেন—
“আমি রক্ত দেবো।”
ডাক্তার বলেন তিনি দুর্বল, তবুও হুজুর বলেন—
“আল্লাহ যা করবেন তাই হবে।”
তিনি রক্ত দেন।
—
দুই দিন পর ছেলেটি জানতে পারে—
“তোমাকে রক্ত দিয়েছে সেই হুজুর।”
সে অবাক হয়ে বলে—
“আমি যার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি, সে-ই আমাকে বাঁচিয়েছে!”
তার বন্ধু তাকে বলে পুরো ঘটনা।
ছেলেটি কান্না করে বলে—
“আমি ক্ষমা চাইবো।”
—
সে ও তার বন্ধু হুজুরের কাছে যায়।
ছেলেটি বলে—
“হুজুর আমাকে মাফ করে দেন।”
হুজুর বলেন—
“আমার কাছে না, আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে ক্ষমা চাও। আমি তো তোমাকে আগেই মাফ করে দিয়েছি।”
ছেলেটি বলে সে ভুল করেছে এবং সাহায্য করতে চায়।
হুজুর বলেন—
“তুমি নামাজ পড়বে, আল্লাহর পথে চলবে।”
শেষে সবাই মসজিদে যায়। নামাজ আদায় করে। ছেলেটি সত্যিকারের অনুশোচনায় ফিরে আসে দ্বীনের পথে।
শেষে বার্তা—
আসুন আমরা সুন্নাহকে ভালোবাসি, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মান করি। তাদের হক আদায় করি। সন্তানদের দ্বীনের সঠিক শিক্ষা দেই।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন