আমাদের পূর্বপুরুষেরা শুধু পতাকার জন্য মরেনি—
তাদের মৃত্যুর ভেতর ছিল
একটি নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন,
এক মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা,
সন্তানের মুখে ক্ষুধার বদলে
একদিন হাসি দেখার আকাঙ্ক্ষা।
তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে
আমাদের নেতারা দেশপ্রেমের ভাষায় বলেছিল—
মরে যাও, মরে যাও,
এই মৃত্যু একদিন স্বাধীন দেশের ভাত হয়ে ফিরবে।
তারা বিশ্বাস করেছিল।
তারা ভাবেনি স্বাধীনতা মানে
শুধু একটি কাপড়ের রঙ বদলানো;
তারা ভেবেছিল
একদিন তাদের ঘরের হাঁড়িটাও
স্বাধীন হবে।
কিন্তু ইতিহাসের বই খুললে
আমরা পতাকা দেখি,
বীরত্ব দেখি,
মৃত্যুর সংখ্যা দেখি—
শুধু দেখি না
সেই মৃত মানুষের খালি হাঁড়িটা।
তাদের প্রজন্ম চলে গেল,
তবুও ভাতের নিশ্চয়তা এলো না।
আমরা তাদের উত্তরাধিকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি—
হাতে পতাকা আছে,
কিন্তু এখনও ভাতের হিসাব আছে।
হে সরকার,
আমাদের ঘুম পাড়ানোর আগে
পতাকার ইতিহাস আরেকবার শোনানোর দরকার নেই;
ইতিহাস আমরা জানি।
আমাদের শুধু বলো—
যে স্বাধীনতার জন্য
তারা জীবন দিয়েছিল,
সেই স্বাধীনতার টেবিলে
আমাদের ভাতের থালাটা
কোথায়?
তারা ভাত পায়নি—
আমরাও যদি না পাই,
তবে প্রশ্নটা পতাকার নয়;
প্রশ্নটা হলো—
একটি জাতি কত প্রজন্ম ধরে
নিজের স্বপ্নের ক্ষুধা বহন করতে পারে?
কবিতা — পতাকার নিচে ভাত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাম্য-জীবনমুখী কবিতা
,
দেশাত্মবোধক কবিতা
১০
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
‘পতাকার নিচে ভাত’ কবিতায় কবি স্বাধীনতার পেছনের মূল আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরা কেবল একটি পতাকার জন্য জীবন দেননি, দিয়েছিলেন একমুঠো ভাত ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় অর্জনের ভিড়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক খাদ্যের অধিকার ঢাকা পড়ে গেছে। কবিতাটি শোষণের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ নিয়ে একটি সময়োপযোগী প্রশ্ন উত্থাপন করে।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
মণীন্দ্র গুপ্ত
শুভ জন্মদিন! 🎈