ভূমিকা

বোধ এবং মনোজগতের অশরীরী দরজায় কড়া নাড়ার যতগুলো মাধ্যম আছে, বোধ করি চিরকুটের আবেদন সবচাইতে দীপ্তিময়, শ্রেষ্ঠতর এবং অনন্যসাধারণ । কালের আবর্তে এবং ডিজিটাল আবহে চিঠি' আজ বিলুপ্তপ্রায় এক ইতিহাস তবে চিঠির প্রতি দুর্বলতা নেই এমন কেতাদুরস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল বৈকি ।
চিঠি দিয়ে একটা ইস্পাত কঠিন হৃদয়কে যত তাড়াতাড়ি তাড়িত করা যায়, পরানের গহীনে প্রবেশ করা যায়, অন্য মাধ্যম দিয়ে মনে হয় অতটা নয় । নন্দিত বাচিকশিল্পী শিমুল মুস্তাফার কণ্ঠে, কাজী মোতাহার হোসেন এর কাছে লিখা কাজী নজরুলের একটি চিঠি' আমার যাপিত বোধকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল, আমি এতটাই আলোড়িত হয়েছিলাম যে, আমি নিজেও পুরোদস্তুর চিরকুট লেখার কাজে নেমে পড়লাম। ইতি তোমার হাসুর 'প্রায় সব চিরকুটই সত্য ঘটনার আলোকে তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি চিরকুটের আবহের জন্য মানুষের রুদ্ধ দ্বারে ঢুঁ মেরেছি দিনের পর দিন । তাঁদের ব্যথা জেনেছি, হৃদয়ের চিলেকোঠার রক্তক্ষরণ দেখেছি, হৃদমাঝারে ধারণ করেছি তাঁদের পুঞ্জিভূত অভিমান, ক্ষোভ এবং তাঁর সর্বান্তকরণ বহিঃপ্রকাশ। সব জানার চেষ্টা করেছি অতঃপর আমি তা আমার মতো করে রূপায়ন করেছি এবং সেই অব্যক্ত ব্যথাতুর প্রাণগুলোর বোবা ভাষা দিয়ে বিনির্মাণ করেছি এক একটি চিরকুট ।

মুহাম্মাদ ইমরান
১০ ১০ ২০১৬