ট্রাকের কাঠে তখনও লেগে ছিল বৃষ্টির গন্ধ,
মাইক্রোফোনের তারে জমে ছিল বিকেলের ঘাম।
বিশ হাজার মানুষ একসাথে শ্বাস নিলে
রাস্তাটা যেন একটা বুক হয়ে ওঠে —
ওঠানামা করে, কথায় কথায় কেঁপে ওঠে।

পাঁচটা বাইশ।

কেউ তখনো জানত না, ছাদগুলো
কতদিন ধরে গুনছিল মানুষের মাথা,
কতদিন ধরে লোহাগুলো অপেক্ষা করছিল
একটা বক্তৃতা শেষ হওয়ার জন্য —
যেন ঘৃণারও একটা সৌজন্যবোধ আছে।

তেরোটা শব্দ। প্রতিটির পরে
এক টুকরো নীরবতা, তারপর
আরেকটা শব্দ, যেন কেউ
পৃথিবীর দরজা বারবার আছড়ে বন্ধ করছে।

জুতো পড়ে রইল রাস্তায়, মালিকহীন —
একজোড়া, তারপর আরেক জোড়া,
যেন মানুষগুলো হঠাৎ
হাঁটা ভুলে গিয়ে উবে গেছে বাতাসে।

একজন নারী, যার হাতে ছিল
দলের ব্যানারের প্রান্ত, তিনদিন
রক্তের মধ্যে দিয়ে হেঁটেছিলেন
মৃত্যুর দিকে, ধীরে, যেন তাড়া নেই কোনো —
তিনদিন পরে তার নাম হয়ে গেল একটা তারিখ।

যে হাত মাইক্রোফোন ধরেছিল,
সেই হাতেই লেগে রইল ধোঁয়া আর কাচ,
আর একটা প্রশ্ন, যার উত্তর
আজও কোনো আদালতের কাগজে
পুরোপুরি সই হয়নি।

এখন প্রতি আগস্টে রাস্তাটা
আবার শ্বাস নেয়, আবার কাঁপে —
কিন্তু বাইশ মিনিটের সেই বিকেল
এখনো ফেরেনি বাড়ি,
এখনো তার জুতো খুঁজছে
কোনো এক অন্ধকার সিঁড়িতে।