মাইকের তারে জড়িয়ে গেছে ভোরের আজান আর
সন্ধ্যার হুমকি— দুটো স্বর
একই খুঁটি বেয়ে নামে।

আমি জানালা বন্ধ করি না, শুধু
কাচের ওপর একটা আঙুল রেখে বসে থাকি,
যেন ছুঁয়ে দেখছি— বাতাসের গায়ে
কতটা লবণ জমেছে আজ।

যে মেয়েটি কবিতা লিখত, তাকে
বই মেলার হিসেবের খাতায় এখন
"নিখোঁজ" শব্দটার পাশে একটা তারিখ করে রাখা হয়েছে।
কেউ ফুল দেয়নি, কেউ মোমবাতি জ্বালায়নি—
শুধু একটা গ্রুপ-ছবি থেকে
তাকে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে নিঃশব্দে,
যেমন পুরোনো ক্যালেন্ডার থেকে
একটা মাস ছিঁড়ে ফেলা হয়।

আমার দেশের মানচিত্রটা আমি চিনি—
নদীগুলো এখনও সেই নামেই বয়,
ধানখেত এখনও সবুজ হয় বর্ষায়।
কিন্তু মিছিলের মুখগুলো বদলে গেছে,
তাদের হাতে এখন বই নেই, লাঠি আছে,
তাদের মুখে এখন গান নেই, রায় আছে—

আর সেই রায় যখন আমার দরজায় এসে
টোকা দেয়, তখন আমি বুঝি,
এই ঘরটা আমার, এই দেয়ালগুলো আমার,
কিন্তু বাইরের এই চিৎকার-করা রোদ্দুরটা
আমার নয়।

এই জঙ্গি তৌহিদী জনতার বাংলাদেশ
আমার দেশ নয়।
আমার দেশ ছিল এক নিঃশব্দ শিক্ষকের হাতের লেখায়,
এক রিকশাওয়ালার হুইসেলে,
এক পিরিচে জমতে থাকা চায়ের রঙে—
যেখানে কেউ কারো বিশ্বাস মেপে
জীবনের দাম বসাত না।

আমি এখনও এই মাটিতেই দাঁড়িয়ে আছি,
পালাইনি, ভয়ও পাইনি সেভাবে—
শুধু বুঝেছি, দেশ আর জনতা
এক শব্দ নয় সবসময়,
আর যে জনতা প্রশ্নকে গুলি করে,
কবিতাকে করে তোলে অপরাধ,
তার হাতে তুলে দেওয়া পতাকাটা
আমি চিনি না, বহন করি না।