প্রবর রিপন

কবিতা - সরে দাঁড়াও

প্রবর রিপন

এখান থেকে সরে দাঁড়াও,
বন্ধ দরজা হয়ে কেনো দাঁড়িয়ে আছো সামনে!
আমাকে ঢুকতে দাও জড়বস্তুর হৃদয়ের অতলে
ঈশ্বর আর শয়তান এখন শুধুমাত্র ওখানেই থাকে।

সামনে থেকে সরে দাঁড়াও,
মানুষ, তুমি চিরকাল আমার ও সময়ের পথের বাধা;
আমাকে জানতে দাও কোন ঘেয়োকুকুর একখণ্ড লোহা হতে চায়
আর কোন লোহাখণ্ড খেলনা বেড়াল নয় – সত্যিকার বেড়াল হতে চায়।

আমি মানুষকে চিনি, আমি মানুষকে জানি – যে কোনো কারো চেয়েও বেশী!
তারা হলো বেঁচে থাকা কিলবিল করা অজস্র পোকামাকড়;
যার একদল বিষাক্ত পোকা – আরেকদল সেই বিষে মরার জন্য জন্মেছে।
আমি সেই পোকাদের দলে জন্মালেও – আমাকে খুঁজে বের করতে হবে তাদের বাইরে মরার স্থান।

সামনে থেকে সরে দাঁড়াও,
রেস্টুরেন্টের কাপ-পিরিচ, প্লেট, চামচ আমাকে ডাকছে;
তারা আমাকে ঠিকই জানাবে মানুষের কত ক্ষুধা
আর পৃথিবীকে সাবাড় করার আগে – কবে থামবে তাদের এই অনন্ত ক্ষুধা!

সামনে থেকে সরে দাঁড়াও
প্রাণীর গন্ধ আমার অসহ্য লাগে, পঁচা লাশের মতো তোমাদের গন্ধ।
এখান থেকে সরে দাঁড়াও
ইস্পাতের ঐ জানালা নিজেই নিজেকে খুলে – আমাকে দেখাবে জড় সূর্যের অলিন্দ।

আমি জাহাজের প্রেমিকাকে নিয়ে সমুদ্রের প্রেমিকার কাছে পালিয়ে যেতে চাই,
আমি চাঁদের যৌনতার স্বাদে ভুলে যেতে চাই আমার বিগত কাম,
মরুভূমির প্রতিটি বালুকনায় আমি পড়তে চাই ধর্মীয় শ্লোক,
তারপর আমি পরমসত্তা ও শয়তানকে খুঁজে পেয়ে জানতে পারবো কতটা জড়।

সামনে থেকে সরে দাঁড়াও
ইঞ্জিনটার ভেতর জমা আছে মহাকাল পেরনোর জ্বালানী।
এখান থেকে সরে দাঁড়াও,
সে তার প্রেমিকার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে
তার চোখের পাশে কয়েক ফোটা জল,
যে জল দেখে আমি টের পেলাম – আমিও একদিন কোনো প্রাণী ছিলাম।
সামনে থেকে সরে দাঁড়াও
একটা জড়বস্তুই জানিয়ে দিচ্ছে আমরা প্রাণ, আমরা নিজেরাও জানিনা যা।

সামনে থেকে সরে দাঁড়াও,
আমাকে অনুভব করতে দাও জড়বস্তুর অনুভূতি;
এখান থেকে সরে দাঁড়াও,
আমি জানি তার ভেতরেই সুপ্ত আমার, পরমসত্তা ও শয়তানের ভবিষ্যৎ ।
প্রাগৈতিহাসিক অতীতের জলের জড় হৃদয়ের ঘূর্ণিপাক থেকে
যেমন উঠে এসেছিলো প্রাণের অঙ্কুর।

পরে পড়বো
১১১৯
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন