পরির সঙ্গে দেখা
শংকর ব্রহ্ম

আমার ঘরে এ.সি ম্যাসিন নেই। এই গরমে ঘুমোতে পারছিলাম না। ফ্যানের হাওয়া আগুনের হল্কা ছড়াচ্ছিল চারপাশে। গ্যাস চেম্বারের মতো লাগছিল ঘরটাকে । কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তাই একটা সিগ্রেট ধরিয়ে জানলায় কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। নাক মুখ দিয়ে একরাশ ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে কবিতার কথা ভাবছিলাম।

এমন সময় এক পরী এসে বসল আমার জানলার পাশে, বললো আমায়, কি নাম তোমার?
আমি রসিকতা করে বললাম, কবি।
- তুমি কবিতা লেখো বুঝি?
আমি গর্ব করে বললাম, লিখি তো ...
- তবে আমায় নিয়ে একটা কবিতা লেখো তো দেখি? পরী বললো।
- কি করে লিখবো, আমি কি তোমায় চিনি, না জানি?
- কবিতা লিখতে গেলে বুঝি চিনতে জানতে হয়?
- তা তো হয়ই ...
- কেন তোমার কল্পনা কি ডানা মেলে না আমার মতো, বলেই সে তার দুই ডানা ঝেরে দিলো, আমার গায়ে এসে লাগল এক হিমেল পরশ।
- আছে, তবে সব সময় মেলি না ...
- কেন, ভাঙা নাকি?
- না না, আমি প্রতিবাদ করে উঠি
- তা, এতো চিৎকার করে বলবার কি আছে? নেড়ে দেখাও তবে আমার মতো।
আমি ডানা নাড়াতে গিয়ে দেখি, ডানা দু'টি পাথরের মতো ভারী, কিছুতেই নাড়াতে পারছি না।
কি হলো? পরী জানতে চায়।
আমি বলি, নড়ছে না তো ...
- তা হলে তুমি কবিতার কাছে পৌঁছাবে কি করে?
- কবিতাই আমার কাছে আসবে, আমি জানি।
- তাই নাকি? যেমন আমি এসেছি?
আমি তার কথার উত্তরে হাসতে গেলাম,
দেখলাম চোয়াল ভারী শক্ত হয়ে উঠেছে।
হাসির বদলে, মুখটা বিকৃত হয়ে ভেঙচি কাটছে।
- আমিই কবিতা, বলে হাসতে হাসতে পরী উড়ে গেল। আমি আহাম্মকের মতো, সে'দিকে তাকিয়ে রইলাম। আমার কবিতা লেখা আর হল না।