তোমা বিহনে প্রভাত যেন ভাঙা মন্দির;
যেখানে পূজারী নেই,
প্রদীপ নিভে গেছে,
ধূপের ধোঁয়া শূন্যে ভেসে থাকে
কোনো দেবতার নাম না উচ্চারণ করেই।
প্রথম সূর্যের আলো যখন
আমার কাচের জানালায় উলটো পাশে এসে দাঁড়ায়,
আমি দেখি\”
সে আলো উজ্জ্বল নয়,
সে আলো এক মৃত ধুলোর উড়বতী নিয়ে হাজির,
যেখানে উষ্ণতা নেই,
আছে কেবল দগ্ধ হওয়ার মগন্তা।
তুমি থাকলে…..
এই আলো হতো স্নিগ্ধ বৃষ্টি,
পাখির ডানায় ঝরতো উল্লাসের সুর,
প্রতিটি বাতাস ছুঁয়ে দিত আমার হৃদয়
তোমার আঙুলের মত মোলায়েম হয়ে।
কিন্তু আজ, তুমিহীন প্রভাতে,
সবকিছু নিস্তব্ধ;
পাখির গানও থেমে গেছে
যেন তারাও জানে-
তোমাকে ছাড়া গান শূন্য প্রতিধ্বনি মাত্র।
আমি তাকাই আকাশের চৌ\’কাটে,
দেখি নীল নয়,
এক বিষণ্ন ধূসর আচ্ছাদন
আমার চারপাশে মাটির গন্ধ হয়ে ছড়িয়ে আছে।
তুমি নেই বলেই
সূর্যের লাল আভা আজ ক্ষতের মতো জ্বলে,
যেন প্রতিটি রোদের কণা
আমার বুকের ভেতরে
তোমার অভাবকে খুঁড়ে খুঁড়ে রক্ত বের করছে।
তুমিহীন প্রভাত মানে…..
অর্ধেক জন্ম,
অর্ধেক মৃত্যু।
এমন এক সময়ের শূন্যতা
যেখানে দিন শুরু হয় না,
রাতও শেষ হয় না।
প্রভাতের শিশির বিন্দু আজ অশ্রু হয়ে ঝরে,
প্রতিটি পাতার কাঁপন যেন
আমার কণ্ঠরুদ্ধ কান্নার প্রতিধ্বনি।
আমি জানি—
তুমি থাকলে এই শিশির হতো স্নিগ্ধ,
কিন্তু এখন সে শুধু স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে
আমার শূন্য হাতের তালুতে।
প্রিয়,
তুমি কি জানো,
প্রভাত আলো দিয়েও অন্ধকার রাখে,
যদি তুমি পাশে না থাকো?
তোমাকে ছাড়া প্রতিটি সকাল
এক দীর্ঘ অন্ত্যোষ্টির মত,
যেখানে শোকই একমাত্র প্রার্থনা,
আর নিঃসঙ্গতাই আমার একমাত্র উত্তরাধিকার।
৯৫

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন