বাউনবাইরার তিতাস পাড়ে জন্ম নিলে কবি,
শব্দ তোমার ছুঁয়ে গেল নদী, মাঠ আর রবি।
লোক-লোকান্তর ডিঙিয়ে গেলে কালের কলস লয়ে,
মাটির ভাষা উঠল জেগে তোমার পরশ পেয়ে।
সোনালী কাবিন প্রেমের মতো দীপ্ত দুপুরবেলা,
মায়াবী পর্দা দুলে ওঠে স্মৃতির অবহেলা।
বখতিয়ারের ঘোড়ার ক্ষুরে ইতিহাসের ডাক,
আরব্য রজনীর রাজহাঁস মেলে গগনে পাখ।
কাবিলের বোন কাঁদে নীরব জনপদের ব্যথা,
উপমহাদেশ শুনে তোমার জাগানিয়া কথা।
পোড়ামাটির জোড়া হাঁসে গ্রামবাংলার প্রাণ,
যমুনাবতীর ঢেউয়ে বাজে বিরহভরা গান।
পানকৌড়ির রক্তমাখা মানুষের ইতিহাস,
নদীর সতীন বয়ে আনে জীবনভরা নিশ্বাস।
পাখির কাছে ফুলের কাছে শিশুর হাসির রোল,
ফড়িং ধরার গল্পে ভাসে শৈশবেরই দোল।
যেভাবে তুমি বেড়ে উঠো, বেড়ে ওঠে দেশ,
কবির মুখে ফুটে ওঠে বাংলার রূপবেশ।
সাহসের সমাচার শোনাও, জাগাও চেতনার দীপ,
আলোকপুলক শিহরণে জাগে পুরুষ সুন্দর রূপ।
যতদিন এই বাংলা ভাষা, নদী, মাঠ আর ধান,
ততদিন দশদিগন্তে উড়বে আল মাহমুদের প্রাণ।
১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
চন্দ্রিমা মডেল টাউন, ঢাকা।