আমি কতবার তোমার বুকে মাথা রেখে
পরিদর্শন করেছি ব্রহ্মাণ্ডের সব শোষকের কারাগার—
লোহা আর লালসায় গড়া সেই অন্ধ প্রকোষ্ঠে
মানুষের কান্না ঝুলে থাকে
মৃত নক্ষত্রের মতো।
আমি কতবার তোমার হাতে রেখে হাত
হাফিজের গজলে সুর মিলিয়ে গেয়েছি
রুটির জন্য লড়তে থাকা মানুষের জয়গান—
যেখানে প্রেম মানে শুধু ঠোঁটের উচ্চারণ নয়,
বরং ক্ষুধার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা
একটি দীপ্ত রুটির নাম।
আমি শিশিরভেজা পথে তোমার সাথে হেঁটে
জীবনানন্দের বনলতার খোঁজ পেয়েছি—
ধানসিঁড়ির কুয়াশা ভেদ করে
দেখেছি ক্লান্ত সভ্যতার চোখে
অবশ নীল বিষাদ।
তখন নজরুল এসে বসেন
আমাদের জ্বরাক্রান্ত সময়ের পাশে!
তার বিদ্রোহী বাঁশিতে আগুন জ্বলে ওঠে,
আর গালিব দূর দিল্লির ধ্বংসস্তূপে বসে
সুরার পেয়ালায় ডুবিয়ে রাখেন
অপূর্ণ প্রেমের কালো ইতিহাস!
তুমি বলেছিলে
মানুষ একদিন মুক্ত হবে।
আমি দেখেছি,
কারখানার ধোঁয়ার ভিতর থেকেও
একটি শিশু আকাশ আঁকতে চায়।
তাই আজও
আমরা প্রেম লিখি না শুধু,
আমরা লিখি রক্তে ভেজা উপমা,
লিখি ভাঙা রাষ্ট্রের দেয়ালে
অন্নের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের নাম।
আর রাত গভীর হলে
তোমার চোখে আমি দেখি,
রবীন্দ্রনাথের শান্ত নদী,
সুকান্তের ক্ষুধার্ত আগুন,
আর পৃথিবী বদলে দেওয়ার জন্য
অপেক্ষমাণ এক অনন্ত ভোর।
…………