আজিজুল হক

কবিতা - সনাতন

আজিজুল হক

আলপথের ধুলোর ভেতর আজ
আমি এক টুকরো সিরাতুল-খোয়াব বিছাই—
তোমার ওষ্ঠের উষ্ণ লমস ছুঁয়ে দিলে
শিশিরেরা হয়ে ওঠে নূরানী তাবিজ।

বাবুইয়ের বাসা—
একটা ঝুলন্ত সূক্ষ্ম স্থাপত্যশাস্ত্র,
যেখানে এখনো প্রযুক্তির ইস্তেকবার পৌঁছয় না,
অ্যালগরিদমের অহংকার দাঁড়িয়ে থাকে
দূরের কোনো নির্বাক মিনারে।

আমি মানুষ দেখি—
অমানুষেরও বুকে জেগে ওঠে রহমত,
তবু চারদিকে বোনা হয়
জাত-ধর্মের মিথ্যা-ইবাদত,
শস্য নয়, জন্ম নেয় বিভেদের শব্দ-শূল।

হে রাখাল,
তুমি আজ কেবল গ্রাম্য নও—
তুমি এক অদৃশ্য মুর্শিদ,
তোমার বাঁশির সুরে
মিশে থাকে ইশ্‌কের সুরা আর বিদ্রোহের গৈরিক মন্ত্র।

আমি নয়ন মেলে দেখি
তুমি এক চলমান ব্রহ্ম-প্রতিচ্ছবি,
প্রতিদিন বদলে যাও,
কখনো আয়াত, কখনো মন্ত্র,
কখনো অপ্রকাশিত উপনিষদে ।

মৃত্যু—
হয়তো এক নিঃশব্দ মহাপ্রস্থান,
একটা ফানা ফিল ইশ্‌ক,
যেখানে আমি-তুমি মিলিয়ে যাই
অদৃশ্য কোনো আত্মা-সমীকরণে।

আমি সেই বিষ পান করেছি!
তাই ধানের শীষে এখনো পাই
মাটির প্রাণতত্ত্বের গন্ধ,
আমি ভেসে যাই—
একটা গ্রামীণ সমাধি-সংগীতে।

নিত্য কাকার দোকানে
এক পেয়ালা চায়ে
কাশেম আলীর সাথে বসে
আমরা দু’জন
সমস্ত দুনিয়ার মায়াবাদী রাজনীতির নির্যাস গুলোকে
ধীরে ধীরে চুমুকে গিলে ফেলি!
….. … ………

পরে পড়বো
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন