এমন কি আমার চুরুট, বন্দুকের মতো, ছুটে যাবে তোমার ঘরে—
সকালবেলা আমি
বসে থাকবো আমার বিছানায়—একটা বিড়াল, রোজ, রুটিন-মাফিক
চেটে দেবে আমার পা-কোথাও যাবো না আমি—
আমার ঘাম বিশাল জলের মতো
আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকবে তোমার ঘর—তুমিও কোনোদিন
যেতে পারবে না কোথাও— দু’হাজার মাইল দূরের
ছোট্টো এক ঘর থেকে, প্রতিদিন, আমি কথা বলবো তোমার সঙ্গে
তুমি খেতে পারবে না ঘুমোতে পারবে না
তুমি গান গাইতে পারবে না হাসতে পারবে না
তুমি থেকে থেকে—সারাজীবন—কেবলই আঁতকে উঠবে ভয়ে—

কালো আকাশ ফাঁসিয়ে, বর্ষাকালে, ঝনঝন নেমে আসবে বিদ্যুৎ
মানুষ, মানুষের ভালোবাসার জন্যে
চিরকাল, পথের ওপর বসে বসে কাঁদবে—আরও রাত্রি হ’লে
আমি বিড়াল নিয়ে শুতে যাবো বিছানায়— দু’চোখ বন্ধ করে, আরও
পরিষ্কারভাবে আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো তোমার
লম্বা, দুঃখিত মুখ—তোমার নীল জামা হাওয়ায় ওড়াউড়ি করবে
তোমার ঘরে—তুমি জানলায় এসে দাঁড়ালে
জানলা থেকে সরে যাবে তোমার বাগান—পৃথিবীর সমস্ত নদী
তোমার ঘরের বহুদুর দিয়ে গান গাইতে গাইতে বহে যাবে—

এ ঐ ও ঔ সারাক্ষণ বসে আছে তোমাকে ঘিরে—হাঃ, ওরা কেউ
তোমাকে বাঁচাতে পারবে না—ওরা প্রত্যেকে
নিজেদের হাঁপানি নিয়ে, একদিন, দৌড়োদৌড়ি করে মরবে—আমার রক্তে
এখনও বেজে চলেছে অপমানের বাঁশি -আলো
আরও কমে আসছে আজ আমার ছোট্টো ঘরে—তৈরি হও, তৈরি হও তুমি—
ঘুম থেকে উঠে, আমি বহুদিন
টেনে নেবো চায়ের কাপ—ঘুম থেকে উঠে, তুমি বহুদিন
ধুয়ে নাও তোমার শুকনো আগোছালো মুখ—
তারপর বিশাল ঘণ্টা বেজে উঠবে কোথাও একদিন—সময় হ’লে
মরা মাছের মতো আমি ভেসে উঠবো জলের ওপর
মরা মাছের মতো জলের ওপর ভেসে থাকবে তুমি