সকালবেলা মসজিদে মুই শরিক করিব কিছু,
কত টাকা দিব— এই ভেবে মোর বিভ্রান্তি নিল পিছু।
এই জগতে আছে যত মোর জমিজমা আর অর্থ,
নিব না কিছু সঙ্গে— মুই, এই ছিল মূল শর্ত।

দম্ভ ভরে তাই কহিলাম, লেখো দশ হাজার খানা,”
কহিলাম, তাই জানুক সবাই— মুই কত বড় জনা।
কেউ লিখিল পাঁচশ-দুশ, জোর করে যেন হাজার,
কহিলাম, আমি ধান তুলে দেব, তবু এমন বাজার!

নবান্নে আজ ধান বেচিনু, খড় সঙ্গে আরও,
বউ চেঁচিয়ে হিসাব শুধায়, সকল তাগাদা সারো!”
শাড়ি কিনিবে, দুল কিনিবে— বোনের বিয়ে যে তার,
শ্বশুরমশাই চিঠিতে জানান, কিছু অর্থের দরকার।

ভাই কহিল, পাঞ্জাবি দাও,” মার ভেঙেছে খাটের পাশি,
বাপে রেগে কয়, ঔষুধ বিনে বাঁকা হলো মোর ছাতি।”
ছোট মেয়ে মোর করুণ চাহুনিতে তাকিয়েছে মোর দিকে,
হেসে কহিলাম, তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।”

ভুলে যে গেলাম কথা, যে দিলাম— মসজিদে শরিক হব,
টাকা যে সব ফুরিয়ে গেছে, এ কথা কেমনে কব?
সেদিন যারা নাম লিখাল, বাকি রাখেনিতো আর কেউ,
লজ্জায় আজ মন পানে ধায় অনুশোচনার ঢেউ!