প্রিয়তম স্ত্রী মরিয়ম তুমি –
সহস্র বছরের প্রতিক্ষা আমার
প্রতিক্ষায় বাড়ানো যে হাত যুগল দুটি
তারপর হেসে হেসে হও কুটি কুটি
সহস্র জনমের যে রক্তাক্ত বেদনা
আর লোক মুখের অকথ্য লাঞ্ছনা
শুনি তার পদধ্বনি –
এলে তুমি আমার হৃদয় চুমি
তুমি আমার একমাত্র সান্ত্বনা
তুমি আমার আরাধনা
কে যেন আমায় বলে কানে কানে
আমি যেন ছুটি তার মায়ার টানে
কি করুন চাহনি যেন হরিনী
মরিয়ম যেন ফুল
বিজলীর মত যার চুল
মুক্তোর মতো যার চিরুর দিশা
গোলাপের পাপড়ির অমানিশা
তারপর লতায় পাতায় যেমন মিশে একাকার
আর নীশিতের অন্ধকার
তার চোখের কাজল
আর পায়ে পরানো যেন দেবীর মাদল
মেঘবরন চুল যখন তার পিঠের উপর খেলে
তখন আমি এক অশান্ত ছেলে
ঐ কাজল কালো চোখ যেন শান্ত দীঘির জল
এক পলকে মনটা হয় চঞ্চল
ঠোঁটের কোনের হাসি যখন ঝর্না হয়ে ঝরে
মনটা তখন তাহার কথাই মনে পড়ে
তাহার সনে কাননে কাননে
ভিজে বেড়াই আমি অনন্ত শ্রাবনে
ভিজি আমি বর্ষার সন্ধিক্ষণে
কিংবা বসন্তের বাতায়নে
দীর্ঘ শতকের রাত্রি আলাপনে
তারপর আনমনে চেয়ে চেয়ে থাকি
কোথাও যেন সে করে ডাকাডাকি
হারানো পথিক যেমন পায় না খুঁজে দিশা
এক পলকে যার আঁধার রাত্রির নিশা
তেমনি খুঁজি জোছনার পাশে
চাঁদের আলো তখন লাগে না ভালো
যখনি তাকে দেখি চাঁদেরি কাছে
আমারি ঘরে চাঁদের চেয়েও
প্রিয়তম সুরভী হয়ত কেউ আছে
সেই সুরভী যে আমার আকাশ
এক নিমিষে আবার শ্রাবণ মেঘ
চোখের কোনে জড়িয়ে থাকে যার
যার ভালোবাসার সমস্ত আবেগ
সে হবে যে আমার সাগর উতল পাতাল ঢেউ খেলে
তারপরে ঐ জলের ছটায় আমি তখন দুষ্টু ছেলে
সে হবে আমার জলের দীঘি উথাল পাতাল ডুব সাঁতার
দীঘির পাড়ে দাঁড়িয়ে রবে অজানা এক দূর পাহাড়
আমার বুকের বা দিকে তাকে যত্নে তুলে রাখি
ভালোবাসার তুলি দিয়ে শুধুই তার ছবি খান আকি
কাজল চোখের মেয়ে জানি প্রত্যেক স্ত্রী
আর কিছুই দেবার বাকি থাকে না
যার এমন মুখশ্রী
ভালোবাসি তার চোখ দুখানি
যা শুধু আমায় দেখে
শুকনো হাত দুটো
যা আমার হাতের প্রতীক্ষায় থাকে
ভালোবাসি তার মুখশ্রী
যা আমার জন্য অভিনব
যার সমস্ত চিন্তা চেতনা
আমার জন্য উৎসর্গ
আমার জন্যই যার এত আরতি
মরিয়ম প্রিয়তম স্ত্রী আমার
সমস্ত চেতনার ঊর্ধ্বে তুমি
তুমি আত্মা আমার আমার নিঃশ্বাস
আর আমার ক্লান্ত জীবনের একমাত্র বিশ্বাস
ঝরা ফুলের পাপড়ি তুমি আমার দীর্ঘশ্বাস
স্ত্রী সে এক পায়রার মত
যে এক খোপরির এক অবোধ বাবু
তার প্রেমের মায়াজালে আমরা নিত্য হাবুডুবু
তার অশ্রুর মায়ায় যেন জড়িয়ে গেছি
সে আমার ভালবাসার চেয়েও বেশি বাসাবাসি
৩৩৬

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন