বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েল পাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ
দেখেছিল; বেহুলাও একদিন গাঙুড়ের জলে ভেলা নিয়ে –
কৃষ্ণা-দ্বাদশীর জোৎস্না যখন মরিয়া গেছে নদীর চড়ায় –
সোনালি ধানের পাশে অসংখ্য অশ্বত্থ বট দেখেছিল, হায়,
শ্যামার নরম গান শুনেছিল – একদিন অমরায় গিয়ে
ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়
বাংলার নদী মাঠ-ভাঁটফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায়।
কবিতা — বাংলার মুখ
শুক্রবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দেশাত্মবোধক কবিতা
৩০৯১
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
জীবনানন্দ দাশের 'বাংলার মুখ' কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের একটি অনন্য সৃষ্টি। কবি বাংলার প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অন্য কোথাও রূপ খুঁজতে চান না। কবিতায় ডুমুর, জাম, বট, হিজল গাছের সবুজ প্রকৃতির পাশাপাশি বেহুলা ও চাঁদ সওদাগরের রূপকথার অনুষঙ্গ অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলার প্রাকৃতিক রূপ ও ঐতিহ্যপ্রীতি এই কবিতার মূল উপজীব্য।