আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি!
আবার বছর কুড়ি পরে—
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
কার্তিকের মাসে—
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে— তখন হলুদ নদী
নরম-নরম হয় শর কাশ হোগলায়— মাঠের ভিতরে।
অথবা নাইকো ধান খেতে আর;
ব্যস্ততা নাইকো আর,
হাঁসের নীড়ের থেকে খড়
পাখির নীড়ের থেকে খড়
ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের জলে।
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার!
হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে
সরু-সরু কালো-কালো ডালপালা মুখে নিয়ে তার,
শিরীষের অথবা জামের,
ঝাউয়ের— আমের;
কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে!
জীবন গিয়েছে চ’লে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!
তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে—
বাবলার গলির অন্ধকারে
অশথের জানালার ফাঁকে
কোথায় লুকায় আপনাকে!
চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে—
সোনালি-সোনালি চিল— শিশির শিকার ক’রে নিয়ে গেছে তারে—
কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!
কবিতা — কুড়ি বছর পরে
মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
বিরহের কবিতা
২৪৭৪
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'কুড়ি বছর পরে' জীবনানন্দ দাশের একটি অন্যতম বিষাদময় ও রোমান্টিক কবিতা। দীর্ঘ সময় পর প্রিয়জনের সাথে পুনরায় দেখা হওয়ার আকুলতা এবং একই সাথে বিস্মৃতির আশঙ্কা এতে ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ রূপসী বাংলার কার্তিকের সন্ধ্যা, শিশির ও ধানখেতের আবহ তৈরি করে কবি সময় ও জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বকে অসাধারণ কাব্যিক রূপ দিয়েছেন।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
সব্যসাচী দেব
শুভ জন্মদিন! 🎈
শ্রী অজয় কুমার দে
শুভ জন্মদিন! 🎈