চোখ দুটো আগে থেকেই শক্ত করে বাঁধা ছিল,
এবার এসে সস্নেহে গলাটা চেপে ধরল অন্ধ বিশ্বাস।
আমরা হাততালি দিয়ে বললাম—
‘যাক, পরম মুক্তি এল তবে!’
আর আস্ত একটা দেশ
নিঃশব্দে ঢলে পড়ল এক অনন্ত কোমায়।
মনিটরে কোনো শব্দ নেই,
মস্তিষ্ক অনেক আগেই মৃত,
বিবেকের রেখাগুলো একেবারে সমান্তরাল সোজা টান—
চিকিৎসকরা বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়েন।
তবু মাঝেমধ্যে...
হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে মরা ইসিজি-র তার!
অদ্ভূত এক কাঁপুনি জাগে নিথর অবয়বে!
এ কি তবে প্রাণের স্পন্দন?
নাকি কোনো অলৌকিক পুনরুত্থান?
না, ও কিছু নয়—
ও কেবল প্রাইমারি স্কুলের বিউটি রানি পালের
তালঠোকা ছড়া আর ছন্দের ঝংকার;
ও কেবল ডিজিটালের পর্দায় ভেসে আসা একঘেয়ে সুর:
‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে...’
অমনি—
কোমার রোগী সামান্য চোখ পিটপিট করে!
সাময়িক ফেনার ওপর ভর দিয়ে
এক মুহূর্তের জন্য নড়েচড়ে ওঠে অবশ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ!
আমরা স্বস্তির হাসি হেসে বলি—
‘আহা, দেশটা তাহলে এখনো একেবারে মরেনি!’
তারপর—
ভাইরাল বিনোদন ফুরোলেই আবার ঘোর অন্ধকার।
ধর্মান্ধতার শীতল নিবিড় চাদরে
পুনরায় ঢেকে যায় নিশ্চেতন শরীর।
আমরা নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফিরি:
যাক,
জীবনের ওই বিরক্তিকর উপহাসটুকু অবশেষে মিটেছে;
রোগী আবার শান্ত হয়ে,
স্থায়ীভাবে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
মুহাম্মাদ শরীফ আহমেদ
শুভ জন্মদিন! 🎈
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক । ভালো থাকবেন নিরন্তর ।
আরো দেখুন
অমরেন্দ্র সেন
লেখক:
অমরেন্দ্র সেন