বাস থেকে নেমে ফুটপাতে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ,
চারিদিকে প্রচুর মাথা, প্রচুর কাঁধ আর কনুই;
ভিড় ঠেলে সবাই এগোচ্ছে, সবার খুব তাড়া—
কেউ অফিসে, কেউ বাজারে, কেউ হয়তো নরকে।

আমি পকেটে হাত দিয়ে একটা মানুষকে খুঁজলাম,
যেমন করে লোকে খুচরো পয়সা খোঁজে।
কিন্তু চারপাশের এই দাপাদাপি, এই উগ্র চিৎকার—
এসবের ভেতর কোনো চেনা আদল নেই।

মানুষের বদলে এখন দেখি ধারালো সব জেদ,
চোখে তাদের বারুদ, জিভে বিষের ছোপ;
যেখানে একটা নরম কথা থাকার কথা ছিল,
সেখানে এখন কেবল অট্টহাসি আর আস্ফালন।

আমি মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে কাগজওয়ালাকে সুধাই—
"আজকের খবরে কোনো মানুষের খোঁজ আছে?"
সে অবাক হয়ে তাকায়, যেন আমি ভিনগ্রহের জীব,
তার কাগজের পাতা জুড়ে কেবল ইতরদের দাপট।

সবাই এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নখ দেখছে,
মানুষ হওয়ার চেয়ে জঙ্গি হওয়া অনেক সহজ কাজ।
আমি ভিড়ের মধ্যে একা দাঁড়িয়ে ভাবলাম—
মানুষেরা কি তবে সত্যিই বিদেশে চলে গেল?
নাকি এই দেশটাই এখন অন্য কারোর দখলে?

বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম একটা শুকনো গাছ,
সেখানেও কোনো পাখি নেই, কেবল কয়েকটা শকুন।
আমি চশমাটা মুছে আবার তাকালাম—
নাঃ, কোথাও কোনো মানুষ নেই, শুধু মানুষের ছদ্মবেশ।