আনোয়ারা সৈয়দ হক
(কথাসাহিত্যিক এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
শংকর ব্রহ্ম
আনোয়ারা সৈয়দ হক এম.বি.বি.এস পাস করার পর তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনী মেডিকেল কোরে লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সম্পূর্ণ নয় মাস তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কাজ করেছিলেন। ঢাকা এয়ারবেসের মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি সৈনিকদের এবং তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের চিকিৎসা করেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে লন্ডন চলে যান। সেখানে কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। লন্ডন থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরে, ১৯৮৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মনোরোগ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক ছিলেন। পরে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অধ্যাপক। ১৯৯৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সাল থেকে তিনি ঢাকার বারডেম হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।
আনোয়ারা সৈয়দ হকের জন্ম ৫ই নভেম্বর, ১৯৪০ সালে। তিনি হলেন একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক।
তিনি বেশ কিছু গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার রচনায় মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন।
আনোয়ারার প্রথম ছোটগল্প 'পরিবর্তন' ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদে' প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত 'দৈনিক ইত্তেফাক'-য়ের কচি কাঁচার আসরে লিখতেন। মাইকেল মধুসূদন কলেজে পড়াকালীন 'দৈনিক আজাদ', 'মাসিক মোহাম্মদী' ও 'গুলিস্তা পত্রিকা'-য় তার লেখা গল্প, কবিতা প্রকাশিত হত। গুলিস্তা পত্রিকায় লিখে তিনি পুরষ্কৃতও হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন লেখালেখির পাশাপাশি তিনি কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কাজ-কর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন মেডিকেল জার্নালে তাঁর লেখা ছাপা হত। তার প্রথম উপন্যাস ১৯৬৮ সালে 'সচিত্র সন্ধানী'-তে প্রকাশিত হয়। তার 'সেই প্রেম সেই সময়' ও 'বাজিকর' উপন্যাসে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে। 'নরক ও ফুলের' কাহিনী উপন্যাসে লিখেছেন ছেলেবেলার কথা। 'বাড়ি ও বণিতা' উপন্যাসে এঁকেছেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সামাজিক সমস্যা। উপন্যাস ছাড়া তিনি শিশুদের জন্য সাহিত্য রচনা করেছেন। ১৯৭৭ সালে 'ছানার নানার বাড়ি', 'বাবার সাথে ছানা' (১৯৮৬ সালে), 'ছানা এবং মুক্তিযুদ্ধ' (১৯৮৭ সালে), ১৯৯০ সালে 'তৃপ্তি', 'আবেদ হোসেনের জোৎস্না দেখা', ১৯৯২ সালে 'হাতছানি', 'আগুনের চমক' এবং 'মুক্তিযোদ্ধার মা' নামক শিশুতোষ গল্প ও উপন্যাসগুলি প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসে অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। পারিবারিক জীবনে তিনি সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের সহধর্মিণী ছিলেন। এছাড়াও তিনি অনুসন্ধান কমিটি, ২০২২-এর সদস্য।
তাঁর দাম্পত্যসঙ্গী ছিলেন - সৈয়দ শামসুল হক ( ১৯৬৫ সালে জন্ম - ২০১৬ সালে মারা যান)
তাঁর সন্তান - বিধিতা সৈয়দ হক (মেয়ে), দ্বিতীয় সৈয়দ হক (ছেলে)।
বর্তমানে তাঁর বয়স ৮২ বছর।
তাঁর উপন্যাস
--------------------------
তৃষিতা (১৯৭৬ সাল)
সোনার হরিণ (১৯৮৩ সাল)
সেই প্রেম সেই সময়
বাজিকর
জলনুড়ি
তারাবাজি
হাতছানি
উদয় মিনাকে চায়
অস্থিরতার কাল, ভালোবাসার সময়
ভালোবাসার লাল পিঁপড়ে
নরক ও ফুলের কাহিনী
বাড়ি ও বনিতা
গা শিরশির (২০১১ সাল)
কার্নিশে ঝুলন্ত গোলাপ
সেই ভাষণটি শোনার পর
নিঃশব্দতার ভাঙচুর
তাম্রচূড়ের লড়াই
সেইসব দিন
যোজন দূরের স্বজনেরা
ঘুম
খাদ
আহত জীবন
আকাশ ভরা
দুই রমণী
নারী : বিদ্রোহী
সবুজ পশমি চাদর
ব্যবহ্নতা
আয়নার বন্দী
নখ
সন্দেহ
ঘুমন্ত খেলোয়াড়
রূপালী স্রোত
চেমনআরার বাড়ি
ছোটগল্প
--------------------------
পরিবর্তন (১৯৫৪ সাল)
পারুলীর উড্ডয়ন
হেলাল যাচ্চিল রেশমার সাথে দেখা করতে
গলে যাচ্ছে ঝুলন্ত পদক
অন্ধকারে যে দরোজা
মানসিক সমস্যার গল্প
শূন্যতার সাথে নৃত্য
গুজরিপঞ্জম
গ্রাম গঞ্জের গভীরে
পূর্ণিমায় নখের আঁচড়
সূর্য ওঠার গল্প
কাব্যগ্রন্থ
--------------------------
কিছু কি পুড়ে যাচ্ছে কোথাও
তুমি আগে যাবে, না আমি
স্বপ্নের ভেতর
তুমি এক অলৌকিক বাড়িঅলা
কাল খুব কষ্টে ছিলাম
আমার শয্যায় এক বালিশ-সতীন
প্রবন্ধ
--------------------------
নারীর কিছু কথা আছে
কিশোর-কিশোরীর মন ও তার সমস্যা
যেমন আমাদের জীবন
ক্ষুব্ধ সংলাপ (২০১১ সাল)
মেয়ে হয়েছি বেশ করেছি (২০১২ সাল)
তোমার কথা
পিকাসোর নারীরা
শিশুসাহিত্য
--------------------------
ছানার নানার বাড়ি (১৯৭৭ সাল)
বাবার সাথে ছানা (১৯৮৬ সাল)
ছানা এবং মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৭ সাল)
পথের মানুষ ছানা
একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে
আমাদের মুক্তিযোদ্ধা দাদাভাই
মন্টির বাবা
তোমাদের জন্য এগারোটি
উল্টো পায়ের ভূত
আমি ম্যাও ভয় পাই
আমি বাবাকে ভালোবাসি
হানাদার বাহিনী জব্দ
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ছড়া
ছোটখেলের বীর
যেমন আমাদের জীবন
সর্পরাজের যাদু
আমার মা সবচেয়ে ভালো (২০০৮ সাল)
তুমি এখন বড় হচ্ছো
টুটুলের মা-গাছ
উদাসী বালক
তপনের মুক্তিযুদ্ধ
কাঠের পা
আগুনের চমক
দশ রঙের ছড়া
মুক্তিযুদ্ধের পাঁচটি উপন্যাস
অনুবাদ
--------------------------
ল্যু সালোমে : সাহিত্যভুবনের অগ্নিশিখা (২০১২ সাল)
স্মৃতিকথা
--------------------------
অবরুদ্ধ
ভ্রমণকাহিনী
--------------------------
উড়ে যাই দূরে যাই
তাঁর প্রাপ্ত-পুরস্কার ও সম্মাননা
------------------------------------------
ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক - ২০১৯ সালে।
উপন্যাস শাখায় নৃ প্রকাশনী থেকে ছানা ও নানুজান-এর জন্য পাঞ্জেরী ছোটকাকু আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার - ২০১৯ সালে।
উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার - ২০১০ সালে।
কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৬ সালে।
ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৬ সালে।
তাছাড়া -
মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার
শিশু একাডেমি পুরস্কার
শংকর ব্রহ্ম জনপ্রিয় লেখাগুলো
আমি
৯৬১ বার পঠিত
বিভ্রম - ৩.
৮৭১ বার পঠিত
পাখি আমার পাখি
৭৪১ বার পঠিত
ঘোড়ার ডিম
৭০০ বার পঠিত
জাপানি কবিতা
৬৩৩ বার পঠিত
লেখকের লেখায় মন্তব্যসমূহ
কিছু অনুভূতি
হালকা করে ছুঁয়ে যায়,
কিন্তু হৃদয়...
আরো দেখুন
রিয়াজ খান-হৃদয়
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ
মহাকালের খেয়া 📜✨
— দরবেশ আল আমিন
অজানার পানে ছ...
আরো দেখুন
দরবেশ আল আমিন
লেখক:
দরবেশ আল আমিন
পৃথিবী কবিতার মতোই সুন্দর, এবং এই সৌন্দর্য দেখার জ...
আরো দেখুন
Munsora Mim
লেখক:
মেহেদী হাসান অপু
কবিতাটি সত্যিই দারুণ। এতো এতো ইমোশন দিয়ে আবৃত। প্র...
আরো দেখুন
সায়েবা
লেখক:
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ