কবি সৈয়দ মেহেদী হাসানের ‘বলতে না পারার শোকে’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির কাব্য অভিনিবেশ ও তার সারাংসার ছিবড়ে নিংড়ে পড়ে। কবি যখন বলেন, ‘হাইড্রোফোবিয়ায় দ্রবিত সাহসের মূলে/খসে পড়লো শ্বাসনালী কিংবা বিবিধ প্রত্যয়’...তাহলে, মেহেদীর কবিতায় যে জটিল মানসিক স্তর রয়েছে, সেখানে হয়তো খুব সহজে পৌঁছাতে পারবো না আমরা। কবির এমন বেপরোয়া প্রত্যয় থেকেই বক্তব্যের গভীরতা ও তার কাব্যবোধের স্বরূপ অনেকটাই উন্মোচিত হয়। প্রকারান্তরে তার নগর ভাবনায় সময়ের অস্তিত্বের তন্ময়তার মধ্যে মনময়তার নিজস্ব আবহ ও আশ্রয় খুঁজে পাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। হয়তো তাই, মেহেদীর কবিতা- তার অন্তরের ক্রোধে যতোটা দেশ প্রেমের জোছনায় জ্বলজ্বলে- ততোটাই মিছিলের পায়ে পায়ে প্রমত্তা বলেশ্বর ও বিষখালী মোহনায় বয়ে চলা উৎপ্রেক্ষা-উপমায় শান্ত পরাবাস্তবতার মতো। কারণ মেহেদীর কবিতায় সৌন্দর্য ও অভিনবত্বের প্রবণতা আছে। যদিও সবটাই রাজনৈতিক কিংবা রোমান্টিকতা সর্বস্বও নয়...।

হেনরী স্বপন
কবি ও লেখক, বরিশাল।
১৮.৯.২০২২

(ভূমিকা ঈষৎ সংক্ষেপিত)