আবু জাফর মহিউদ্দীন

গল্প - লোভী ভিক্ষুক ও স্বর্ণমুদ্রা

আবু জাফর মহিউদ্দীন
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ছোটদের

এক ভিক্ষুক খাবারের জন্য ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াত। সে ছিল খুব কুৎসিত; ছেঁড়া জামাকাপড় আর এলোমেলো চুল। তার একটি পুরোনো ব্যাগ ছিল।
সে প্রতিটি বাড়িতে যেত, আর কিছু না পেলে বাড়ির মালিকদের সম্পর্কে নানা কথা বলত। এক বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সে উচ্চস্বরে বলল,
“বাড়িটা অনেক বড়, কিন্তু এখানকার মানুষ অনেক টাকা থাকলেও সন্তুষ্ট নয়। তারা সব সময় আরও বেশি চায়। শেষ পর্যন্ত লোভের বশে সব হারিয়ে ফেলে…”
এরপর সে অন্য এক বাড়িতে গেল। সেখানেও কিছু না পেয়ে বলল,
“এই বাড়ির লোকটি কোটিপতি, কিন্তু তাতেও সে সন্তুষ্ট নয়। আরও টাকা বাড়ানোর জন্য জুয়া খেলে। আমি যদি একটু টাকা পাই, তাতেই সন্তুষ্ট হব। আমি লোভী হব না!”
এ কথা বলেই সে রাস্তার পাশে হাঁটতে লাগল। হঠাৎ এক বিশাল জীন তার সামনে উপস্থিত হলো।
জীন বলল, “আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। তোমার ব্যাগটা দাও, আমি তাতে সোনার মুদ্রা ভরে দেব। তুমি যত খুশি নিতে পারো।”
ভিক্ষুক অবাক হয়ে জীনের দিকে তাকাল। জীন আবার বলল,
“শোনো, ব্যাগে যে মুদ্রা পড়বে, তা সোনা হয়ে যাবে। কিন্তু মাটিতে পড়লে তা ধুলোয় পরিণত হবে—এটা আমার সতর্কবার্তা।”
ভিক্ষুক আনন্দে ব্যাগ খুলে ধরল। জীন সোনার মুদ্রা ঢালতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যাগ পূর্ণ হয়ে গেল, তখন জীন থেমে গেল।
ভিক্ষুক বলল, “এটা কি যথেষ্ট? আমি তো রাজা-বাদশার মতো ধনী হতে চাই!”
জীন বলল, “এটাই যথেষ্ট।”
কিন্তু ভিক্ষুক বলল, “না, আমি আরও চাই!”
জীন আবার কিছু মুদ্রা দিল এবং সতর্ক করে বলল, “তোমার ব্যাগ আর বেশি নিতে পারবে না।”
ভিক্ষুক তবুও বলল, “আরও দাও!”
জীন আবার কিছু মুদ্রা দিল। এবার বলল, “তোমার ব্যাগ ছিঁড়ে যাচ্ছে…”
কিন্তু ভিক্ষুক শুনল না—
“না, না! আরও দাও! আমার ব্যাগ ধরে রাখবে!”
এক মুহূর্তের মধ্যেই ব্যাগটি ছিঁড়ে গেল। সব মুদ্রা মাটিতে পড়ে ধুলোয় পরিণত হলো। আর সেই সঙ্গে জীনও অদৃশ্য হয়ে গেল।
লোভী ভিক্ষুক স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

পরে পড়বো
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন