চা-বাগানের ভেজা দুপুরে
আমি দেখেছি—
এক শ্রমিক নারীর কপালে জমে থাকা ঘাম
ঠিক প্রেমিকার কপালের টিপের মতোই লাল।
তোর্সার জলে ভেসে আসে
অসংখ্য অনাহারী সন্ধ্যা,
তবু শালবনের ভিতর
কেউ বাঁশি বাজায়—
যেন পৃথিবী এখনো সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর হয়নি।
ডুয়ার্স মানে শুধু সবুজ নয়,
এখানে রাত নামলে
হাতির চেয়েও ভারী হয়ে ওঠে
বঞ্চনার ইতিহাস।
চা-পাতার সুবাসে ঢাকা পড়ে থাকে
কত অদেখা ক্ষুধা।
তবু প্রেম আসে—
কুয়াশার মতো নরম হয়ে,
কোনো আদিবাসী কিশোরীর চোখে
জ্বেলে দেয় বনফুলের ভাষা।
আর দ্রোহ?
সে তো এই মাটিরই সন্তান—
কালজানির উত্তাল স্রোতের মতো
একদিন নিশ্চয়ই ভেঙে দেবে
সব নীরবতার বাঁধ।
ডুয়ার্সের ভিতর দ্রোহের জ্যোৎস্না
ডুয়ার্সের রাত মানে
শুধু জোনাকির আলো নয়!
এখানে প্রতিটি চা-পাতার শিরায়
ঘুমিয়ে থাকে অঘোষিত বিদ্রোহ।
আমি দেখেছি,
বৃষ্টিভেজা বাগানের ভিতর
এক শ্রমজীবী নারীর নীরব মুখ
ঠিক ততটাই সুন্দর,
যতটা সুন্দর হয়
ক্ষুধার মধ্যেও বেঁচে থাকার জেদ।
মূর্তি নদীর জলে মুখ ধুয়ে
ফিরে আসে ক্লান্ত পুরুষেরা—
তাদের চোখে জমে থাকে
অসমাপ্ত মজুরির চেয়ে বড় কোনো অন্ধকার।
তবু গভীর রাতে
কারও বাঁশির সুরে
হঠাৎ কেঁপে ওঠে শালবনের নিঃসঙ্গতা,
যেন প্রেম এখনো
মানুষের শেষ আশ্রয়।
ডুয়ার্সের শরীরে আমি
দেখেছি একই সঙ্গে
মেহনতের ক্ষত আর চুম্বনের দাগ।
……… ……….