ডুয়ার্সে আজও বৃষ্টি হয়।
শালবনের মাথার উপর নুয়ে পড়ে মেঘ, চা-বাগানের সরু পথ বেয়ে জল গড়িয়ে যায় যেন বহুদিন আগে লেখা কোনো অসমাপ্ত স্বীকারোক্তি।
একজন নারী সেই জলধারার দিকে চেয়ে থাকে।
তার জীবনেও একদিন প্রেম এসেছিল
ঠিক বর্ষার প্রথম গন্ধের মতো, মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক অনিবার্য বিশ্বাসের মতো।
তারপর?
তারপর মানুষগুলো বদলে গেছে।
কেউ কেউ একই সঙ্গে দুটি নদীর কাছে জল চেয়েছে, দুটি আকাশে উড়িয়েছে একই পাখির ছায়া।
নারীটি তখন শিখেছে,
দ্বিচারিতা কখনও ঝড় হয়ে আসে না,
আসে শিশিরের মতো নিঃশব্দে, আর ভোর হলে দেখা যায় সমস্ত ফুল ভিজে গেছে।
এখন সে আলপথ ধরে হাঁটে।
যে আলপথ একদিন দু’জন মানুষের গোপন ইতিহাস জানত, আজ সেখানে শুধু বুনো ঘাসের সংসার।
সূর্য ডোবে।
পশ্চিম আকাশে ছড়িয়ে পড়ে রক্তমাখা কমলারঙ,
আর তার মনে হয়,
পৃথিবীর প্রতিটি সূর্যাস্ত আসলে
কোনো না কোনো প্রতীক্ষার মৃত্যু।
তবু সে বেঁচে আছে।
মানুষের বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো,
সে হারিয়ে যাওয়া জিনিসের সঙ্গেও একসময় সহবাস শিখে ফেলে।
সে আজকাল স্মৃতির পাশে বসে চা খায়,
অভিমানের সঙ্গে কথা বলে,
আর মাঝরাতে বৃষ্টির শব্দ শুনে ভাব করে যেন কিছুই মনে নেই।
কিন্তু মনে থাকে।
যেমন ভেজা মাটির নিচে পুরোনো শিকড় বেঁচে থাকে,
তেমনি তার ভেতরে একটি বিকেল এখনও নিঃশ্বাস নেয়!
যে বিকেলে আলপথ পেরিয়ে সূর্য ডোবার আগে একজন মানুষ বলেছিল, “থাকব।”
আর তারপর সবচেয়ে দীর্ঘ যে যাত্রা!
সেটি শুরু হয়েছিল সেই মানুষটির চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
……… ……….