আবু জাফর মহিউদ্দীন

গল্প - ঈদের হাসি

আবু জাফর মহিউদ্দীন
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ছোটদের, জীবনবাদী

ঈদের সকাল। চারদিকে আনন্দের বন্যা। নতুন জামার খসখস শব্দ, মিষ্টি আতরের ঘ্রাণ আর শিশুদের হাসিতে মুখর চারপাশ। কিন্তু সেই আনন্দের ভিড়ের মাঝেও এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক বিষণ্ণ মুখের শিশু। আমরা পথশিশু বলে চিনি।

যাদের এলোমেলো চুল, গায়ে ছেঁড়া জামা—তবুও তাদের চোখে এক অদ্ভুত আলো। পথচলতে প্রতিটি শিশুর দিকে তাকিয়ে সে মৃদু হাসে। নতুন জামা পরা শিশুদের পিছু পিছু হাঁটে, যেন তাদের আনন্দের সামান্য অংশ নিজের করে নিতে চায়।
হাঁটতে হাঁটতে সে একসময় একটি খেলনার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। দোকানজুড়ে রঙিন খেলনার সমারোহ—গাড়ি, পুতুল, বল, বন্দুক—সবকিছু যেন তাকে ডাকছে। ভিড়ের মাঝেও সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে আর শুধু তাকিয়ে থাকে।
দোকানদার তার দিকে তাকিয়ে একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
“এই ছেলে, কী চাই তোমার?”
ছেলেটি মাথা তুলে শান্ত স্বরে বলল,
“চাচা, আমি মোটেই গরিব নই।”
কথাটা শুনে দোকানদার বিরক্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। ছেলেটি হোঁচট খেয়ে রাস্তার পাশে পড়ল। তার চোখে পানি জমে উঠল কিন্তু সে কাঁদল না।
ঠিক তখনই পাশেই বসে থাকা এক বৃদ্ধ তাকে হাত ধরে তুলে দাঁড় করালেন। স্নেহভরা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
“কী হয়েছে বাবা?”
ছেলেটি কাঁপা গলায় বলল,
“চাচা, আমার বাবা পঙ্গু, মা অসুস্থ। আমার ইচ্ছাগুলো—খেলনা দেখা, একটু আনন্দ করা—সবই যেন গরিব হওয়া আর মার খাওয়ার নিয়তি।”
বৃদ্ধের চোখ ভিজে উঠল। তিনি আলতো করে ছেলেটির চোখের পানি মুছে দিলেন। তারপর দোকানে গিয়ে একটি ছোট্ট খেলনা কিনে এনে তার হাতে তুলে দিলেন।
খেলনাটি হাতে পেয়ে ছেলেটির মুখে ফুটে উঠল এক নির্মল হাসি—যে হাসিতে লুকিয়ে ছিল শত কষ্টের মাঝেও খুঁজে পাওয়া ঈদ আনন্দ। সে খেলনাটি বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে বাড়ির পথে ছুটে গেল।
বৃদ্ধ লোকটি স্থির হয়ে তার চলে যাওয়া দেখলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
“জানি না, ওর মতো কত নিষ্পাপ শিশু মনে মনে কষ্ট লুকিয়ে বেঁচে আছে। আমরা যদি আমাদের সন্তানের সঙ্গে ওদের জন্যও একটি করে খেলনা কিনে দিই, তাহলে ওরাও ঈদের প্রকৃত আনন্দ অনুভব করতে পারবে।”ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়।

পরে পড়বো
২০
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন