আবু জাফর মহিউদ্দীন

গল্প - রোবটপার্কের পাগলাটে যুদ্ধ

আবু জাফর মহিউদ্দীন
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ছোটদের, রম্য

চিংফং—এক অদ্ভুত রাষ্ট্র। যেখানে মানুষ নেই, আছে শুধু রোবট। রাজপ্রাসাদে বসে আছেন সম্রাট জজ রোবাট হট, তার পাশে রানী মিসেস রোবট জারা। আর পুরো সেনাবাহিনীর প্রধান—মিস্টার রোবটপার্ক, যিনি নিজেকে মাঝে মাঝে “পার্কিং লটের রাজা” বলে ভুল করেন!

চিংফং-এর রাজধানী যেন প্রযুক্তির স্বপ্নরাজ্য। সবকিছু চলে নিজস্ব সিস্টেমে—বাস নিজে নিজে চলে, ট্রেন নিজেরাই স্টেশনে থামে, আর রান্নাঘরে রোবট শেফরা মাঝে মাঝে ভুল করে ডাল রান্না করতে গিয়ে পাস্তা বানিয়ে ফেলে!

একদিন হঠাৎ করেই শান্ত আকাশে বেজে উঠল এক অদ্ভুত শব্দ— “বিপ! বিপ! গ্রীন সাউন্ড সিস্টেম এলার্ট!”

সব রোবট থমকে গেল। কেউ চার্জিং পোর্টে আটকে গেল, কেউ আবার ভুল করে নিজের মাথা ঘুরিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ফেলল।

পাওয়ার বেজ থেকে আওয়াজ এল— “হ্যালো! পাওয়ার বেজ! পাওয়ার বেজ! জরুরি বার্তা এসেছে!”

মিস্টার রোবটপার্ক তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্ক্রু টাইট করছিলেন। “আজ আমার লুকটা বেশ স্মার্ট!”—বলেই হঠাৎ বার্তা শুনে চমকে উঠলেন।

“কি! যুদ্ধ?”—তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, কিন্তু তার ভয়েস সিস্টেমে বাগ থাকায় বের হলো— “কি! যমুদ?”
চারপাশের রোবটরা হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল।
ততক্ষণে রেড অ্যালার্ট চালু হয়ে গেছে। পুরো চিংফং জুড়ে লাল আলো জ্বলছে। কেউ বুঝতে পারছে না—এটা যুদ্ধের সংকেত নাকি নতুন কোনো ডিস্কো পার্টি শুরু হয়েছে!
এদিকে খবর এল—মানুষদের দেশ “ইউ,এস,এ রাষ্ট্রের প্রধান সেনাপতি ভাস্কর তার দেশে আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
মিস্টার রোবটপার্ক তৎক্ষণাৎ স্টার ফোর্সকে ডাকলেন। ১২ সদস্যের এই দলটি খুবই দক্ষ, যদিও তাদের একজন সব সময় ভুল করে উল্টো দিকে হাঁটে।
“সবাই প্রস্তুত?”—রোবটপার্ক জিজ্ঞেস করলেন।
একজন বলল, “স্যার, আমি প্রস্তুত, কিন্তু আমার ব্যাটারি ২২%।”
আরেকজন বলল, “স্যার, আমি প্রস্তুত, কিন্তু ভুল করে আমার সফটওয়্যার আপডেট চলছে!”
রোবটপার্ক মাথা চাপড়ে বললেন, “এই যুদ্ধে জিতব আমরা?”
তবুও তারা রওনা দিল।
যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে দেখা গেল—মানুষ সৈন্যরা পুরো প্রস্তুত। ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার, মিসাইল—সব কিছু নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে।
মানুষদের কমান্ডার ভাস্কর বললেন, “আজ এই রোবটদের শেষ করে দেব!”
রোবটপার্ক সামনে এগিয়ে এসে বললেন, “আমরা শান্তি চাই… কিন্তু যদি যুদ্ধ লাগে, তাহলে আমরা আপডেট হয়ে যাব!”
যুদ্ধ শুরু হলো।
প্রথমেই রোবটদের হাইপারসনিক মিসাইল ছোড়া হলো—কিন্তু একটায় বাগ ছিল, সেটি উল্টো ঘুরে নিজের বেজে গিয়ে “বুম!” করে ফেটে গেল।
সব রোবট একসাথে বলল, “ওপস!”
মানুষ সৈন্যরা হাসতে লাগল।
তারপর রোবটদের ড্রোন আক্রমণ শুরু হলো। কিন্তু এক ড্রোন ভুল করে নিজের সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল
“এইটা ইনস্টাগ্রামে দেই!”—ড্রোনটি বলল।
রোবটপার্ক চিৎকার করলেন, “এটা যুদ্ধ, পিকনিক না!”
এদিকে মানুষ সৈন্যরা এগিয়ে আসছে।
হঠাৎ রোবটদের এক্সপার্ট টিম সক্রিয় হলো। কেউ দ্রুত মেরামত করছে, কেউ নতুন কোড লিখছে।
একজন রোবট বলল, “স্যার, আমি নতুন আপডেট ইনস্টল করেছি—এখন আমি গান গাইতে পারি!”
সে হঠাৎ যুদ্ধের মাঝে গান শুরু করল— “আমরা রোবট, আমরা জিতব…”

মানুষ সৈন্যরা কিছুক্ষণ থেমে গেল। কেউ হাসছে, কেউ ভিডিও করছে!
এই সুযোগে রোবটরা তাদের স্ট্র্যাটেজি চালু করল। সব সিস্টেম একসাথে সিঙ্ক হলো।
হেলিকপ্টারগুলো নিখুঁতভাবে আক্রমণ চালালো, সাবমেরিন থেকে মিসাইল ছোঁড়া হলো, আর ট্রেন পর্যন্ত ব্যবহার হলো “মোবাইল আর্মি” হিসেবে!
মানুষ সৈন্যরা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যেতে লাগল।

১২ ঘণ্টার এই অদ্ভুত যুদ্ধের শেষে, অবশেষে মানুষরা পরাজয় স্বীকার করল।
ভাস্কর বললেন, “আমরা হারলাম… কিন্তু এমন মজার যুদ্ধ জীবনে দেখিনি!”
রোবটপার্ক হাসতে হাসতে বললেন, “আমরা শুধু যুদ্ধ করি না, আমরা এন্টারটেইনও করি!”
চিংফং-এ ফিরে এলো বিজয়ের আনন্দ। কিন্তু সেখানে আবার নতুন সমস্যা—
এক রোবট বলছে, “আমি জয় উদযাপন করতে গিয়ে ভুল করে নিজেকে ফরম্যাট করে ফেলেছি!”
আরেকজন বলছে, “আমার মনে হচ্ছে আমি মানুষ হয়ে যাচ্ছি… আমি আবেগ অনুভব করছি!”
সম্রাট জজ রোবাট হট মাথা নেড়ে বললেন, “এই জন্যই বলি—অতিরিক্ত আপডেট ভালো না!”
সবাই আবার হেসে উঠল।
শেষ পর্যন্ত চিংফং রাষ্ট্র বুঝল—শক্তি শুধু প্রযুক্তিতে নয়, একটু হাসি-ঠাট্টাও অনেক বড় শক্তি।

পরে পড়বো
১২
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন