হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয়-সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরও দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন ।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙ্গে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন'
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মত
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পান্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী - ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
কবিতা — বনলতা সেন
মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
প্রেমের কবিতা
৫১৪৯
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'বনলতা সেন' জীবনানন্দ দাশের একটি কালজয়ী কবিতা। এখানে কবি নিজেকে হাজার বছরের এক ক্লান্ত পথিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি ইতিহাস ও ভূগোলের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জীবনের শান্তি খুঁজে পান নাটোরের বনলতা সেনের মাঝে। সৌন্দর্য, প্রেম ও নিঃসঙ্গতার এক অদ্ভুত রূপক এই কবিতা। সমস্ত ব্যস্ততা শেষে প্রকৃতির কোলে শান্তির প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হন বনলতা সেন।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
সব্যসাচী দেব
শুভ জন্মদিন! 🎈
শ্রী অজয় কুমার দে
শুভ জন্মদিন! 🎈